স্টাফ রিপোর্টার,নিউজবাংলা ডেক্স, ২০ সেপ্টম্বর : আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হবে। এ উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকবে। তবে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য দিনটি সাধারণ ছুটির আওতায় পড়ছে না।
অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা ছুটি পেলেও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের স্বাভাবিক কর্মদিবস হিসেবে অফিস করতে হতে পারে। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকায় ছুটির বিষয়টি আলাদা করে জানা জরুরি।
সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি ঐচ্ছিক ছুটি। ফলে দিনটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক সাধারণ ছুটি হিসেবে নির্ধারিত নয়।
সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এই ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। তবে অনুমোদন ছাড়া শুধু ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে অফিস বন্ধ থাকবে এমন নিয়ম নেই।
তাই সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ২৩ সেপ্টেম্বরকে সাধারণ সরকারি ছুটি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয়টি সরকারি অফিসের ছুটির তালিকা থেকে কিছুটা আলাদা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জিতে ২৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ কারণে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় এদিন নিয়মিত ক্লাস হবে না।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সরকারি অফিস খোলা থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে। ফলে সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতে হবে না।
২৩ সেপ্টেম্বর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা ছুটির সুবিধা পাবেন।
অর্থাৎ স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী এদিন শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা বিশেষ কার্যক্রম থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটির তারিখেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) অধীন ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) বোর্ড, ময়মনসিংহ দেশের পিটিআইগুলোর জন্য নির্ধারিত ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে।
আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ছুটি দেওয়ার কথা থাকলেও পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি পালন করা হবে।
ফলে পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের জন্যও ২৩ সেপ্টেম্বরের ছুটির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ ছুটি নয়। তাই সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এদিন নিয়মিত কার্যক্রম চালু থাকার কথা।
তবে কেউ যদি ধর্মীয় কারণে ঐচ্ছিক ছুটি নিতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে পারবেন। অর্থাৎ ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
চাকরিজীবীদের তাই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ছুটির নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
২৩ সেপ্টেম্বর ব্যাংক, বীমা, করপোরেট অফিস এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও সাধারণ ছুটি নির্ধারিত হয়নি।
ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক নিয়মে কার্যক্রম চলতে পারে। তবে কোনো ব্যাংক, বীমা কোম্পানি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির তালিকায় আলাদা সিদ্ধান্ত থাকলে সেটিই কার্যকর হবে।
বিশেষ করে বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ ছুটি নয়। তাই অফিস খোলা থাকবে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ছুটি দিতে পারে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবেও দিনটি পালন করতে পারে।
২৩ সেপ্টেম্বর নিয়ে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তির কারণ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকা এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সাধারণ ছুটি না থাকা। একই দিনে দুই ধরনের ছুটির ব্যবস্থা থাকায় বিষয়টি অনেকের কাছে অস্পষ্ট মনে হতে পারে।
তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির দিন হলেও চাকরিজীবীদের নিজ নিজ অফিসের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীরা ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ নিতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। আর বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির নীতিমালাই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।



