সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeজাতীয়জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার পর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার পর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসতে পারে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু অর্থায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজবাংলা ডেক্স, ১৯ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তিনি। ১৯৮০ সালে তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে তাঁর মা খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন।

তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, বৈশ্বিক শান্তি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা সংকট তাঁর বক্তব্য ও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ভাষণকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসতে পারে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু অর্থায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

জিয়া পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্কের সূচনা হয় ১৯৮০ সালে। ওই বছরের ২৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

তাঁর সেই ভাষণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট, ধনী ও দরিদ্র রাষ্ট্রের মধ্যে বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থায় তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।

শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

অর্থাৎ চার দশকের বেশি সময় আগে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল, এবার সেই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানও বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।

জিয়াউর রহমানের ভাষণের ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এরপরও জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক সভায় অংশ নেন। ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশনেও বক্তব্য দেন। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশনের বিভিন্ন আয়োজনে তাঁর বক্তব্য ছিল।

জাতিসংঘের নথি উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।

এবার একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ফলে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর তিনি হবেন পরিবারের তৃতীয় সদস্য, যিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এই ধারাবাহিকতা ১৯৮০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। চার দশকেরও বেশি সময়ের ব্যবধানে পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির প্রতিনিধিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে।

তবে প্রতিটি সময়ের আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বাস্তবতা আলাদা। ১৯৮০ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়নশীল বিশ্বের সংকট ছিল গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য। ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশকে ঘিরে উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক রাজনীতি ছিল আলোচনার অংশ। আর ২০২৬ সালে জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং বৈশ্বিক শান্তির মতো বিষয় সামনে রয়েছে।

তারেক রহমানের জাতিসংঘ ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য জলবায়ু অর্থায়ন ও বৈশ্বিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বাংলাদেশের আলোচনায় থাকতে পারে।

জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরার কথা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধান তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

এর পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক শান্তির মতো বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে। অর্থাৎ ভাষণটি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।

বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু রোহিঙ্গা সংকটও এবারের জাতিসংঘ সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মানবিক সহায়তা এবং সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি রয়েছে। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’, যার অর্থ আস্থা পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলা।

এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হতে যাচ্ছে।

তারেক রহমানের ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণের দিকে এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের নজর রয়েছে। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, রোহিঙ্গা সংকট এবং বৈশ্বিক শান্তি নিয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে যে ধারার সূচনা হয়েছিল এবং ১৯৯৩ সাল থেকে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যে ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই ধারায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ