স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ বাংলা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভাটি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়টি জানান। সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সরকার বাজেট বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সকারের বরাদ্দ করা অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে যথায়ত ভাবে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছেন, অনেক টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, এই অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়। এ বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।’
সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি কর্মকর্তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানোও গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের সেবা করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিশেষ সুযোগ পেয়েছেন। তাই এ সুযোগ ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা’আলা আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন তা আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় একইভাবে থাকে না। তাই যে ব্যক্তি যখন যে দায়িত্বে থাকেন, তাঁর উচিত সেই সময় ও সুযোগকে দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগানো।
সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।’
তিনি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যেন তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সচেষ্ট থাকেন।
সভায় কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এ কারণে তাঁদের পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ ও মতামত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরবেন। এতে চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক তথ্য পাওয়া যাবে।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের গৃহীত উদ্যোগ ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।