খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিরল কালোমুখো হনুমানের খাবার সংকট : কেন ছড়িয়ে পড়ছে গ্রাম থেকে গ্রামে?

যশোরের কেশবপুরে বসবাসকারী বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান এখন খাবারের অভাবে নিজেদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। পর্যাপ্ত খাদ্যের...
Homeমেডিকেল জার্নালঅণ্ডকোষে বরফ বা রেড লাইট থেরাপি: শুক্রাণু বাড়ানোর অনলাইন পরামর্শ কতটা বৈজ্ঞানিক?

অণ্ডকোষে বরফ বা রেড লাইট থেরাপি: শুক্রাণু বাড়ানোর অনলাইন পরামর্শ কতটা বৈজ্ঞানিক?

বিশ্বজুড়ে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করছেন, আগের তুলনায় অনেক বেশি পুরুষ এখন বীর্য পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হচ্ছেন। ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরুষের উর্বরতা বা ফার্টিলিটি নিয়ে সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ানো, টেস্টোস্টেরন উন্নত করা কিংবা ভবিষ্যতের প্রজনন ক্ষমতা রক্ষার নানা উপায় নিয়ে কোটি কোটি মানুষ কনটেন্ট দেখছেন। তবে এসব পরামর্শের বড় একটি অংশ চিকিৎসাবিজ্ঞানের শক্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু ভুয়া তথ্য, অতিরঞ্জিত দাবি এবং প্রমাণহীন চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক পুরুষকে বিভ্রান্ত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে বসবাসকারী ২৮ বছর বয়সী সাইমন তাদেরই একজন, যিনি বিশ্বাস করেন নিয়মিত কিছু অভ্যাস অনুসরণ করলে শুক্রাণুর মান উন্নত রাখা সম্ভব।

তার প্রতিদিনের রুটিন শুরু হয় স্টিম বাথ দিয়ে। তিনি মনে করেন, এতে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের হয়ে যায় এবং প্রজনন ক্ষমতা ভালো থাকে। তবে অতিরিক্ত তাপ যাতে অণ্ডকোষে প্রভাব না ফেলে, সে জন্য তিনি বরফের বিশেষ প্যাক ব্যবহার করেন। তার ভাষায়, এই পদ্ধতি শুক্রাণুর সংখ্যা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

এর পাশাপাশি তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, রোদে সময় কাটান, মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত পানি পান করেন এবং সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করেন। তার বিশ্বাস, এসব অভ্যাস ভবিষ্যতের প্রজনন সক্ষমতা রক্ষা করবে।

কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন পর্যন্ত এসব অভ্যাসের মাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পায়নি।

সাইমনের বর্তমানে সন্তান নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই, এমনকি তার কোনো সঙ্গীও নেই। তবুও তিনি মনে করেন, কম শুক্রাণু সংখ্যা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমোনের পরিবর্তন শুক্রাণুর উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে ঠিকই, কিন্তু শুধুমাত্র কম শুক্রাণু সংখ্যা থাকার অর্থ এই নয় যে টেস্টোস্টেরন বা এন্ডোক্রাইন সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করছেন, আগের তুলনায় অনেক বেশি পুরুষ এখন বীর্য পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হচ্ছেন। ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—

  • টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির (TRT) ব্যবহার বৃদ্ধি
  • স্টেরয়েড গ্রহণের প্রবণতা
  • পরিবেশগত দূষণ ও বিষাক্ত রাসায়নিক নিয়ে উদ্বেগ
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্ট

এসব কারণ মিলিয়ে অনেক পুরুষ নিজেদের প্রজনন ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।

অনেক জনপ্রিয় স্বাস্থ্য ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেন, সওনা, বরফ প্যাক, রেড লাইট থেরাপি কিংবা বিশেষ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করলে শুক্রাণুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে।

এ ধরনের কনটেন্টের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সাপ্লিমেন্ট, অনলাইন কোর্স এবং স্বাস্থ্যপণ্য বিক্রিও করা হচ্ছে।

তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এসব দাবির অধিকাংশের পক্ষে এখনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

গত কয়েক বছরে প্রকাশিত কয়েকটি বড় গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বব্যাপী শুক্রাণুর গড় সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এছাড়া এই তথ্য থেকে সরাসরি বলা যায় না যে ভবিষ্যতে সব পুরুষ বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিতে পড়বেন কিংবা বিশ্বব্যাপী জন্মহার কমার একমাত্র কারণ শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস।

জন্মহার কমার পেছনে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও জীবনযাত্রার নানা বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমানে অনেকেই অণ্ডকোষের ওপর রেড লাইট ডিভাইস ব্যবহার করছেন অথবা নিয়মিত বরফের প্যাক লাগাচ্ছেন।

কিছু ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেন, এতে শুক্রাণুর গুণগত মান বাড়ে এবং সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু গবেষকরা বলছেন, এসব পদ্ধতি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সীমিত কিছু গবেষণা থাকলেও এগুলোকে কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

অর্থাৎ, এসব পদ্ধতি নিয়মিত অনুসরণ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

যেখানে বরফ বা রেড লাইট থেরাপির কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়, সেখানে কিছু অভ্যাসের পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা যেসব বিষয় গুরুত্ব দেন সেগুলো হলো—

  • নিয়মিত ব্যায়াম
  • পর্যাপ্ত ঘুম
  • সুষম খাদ্যাভ্যাস
  • ধূমপান পরিহার
  • অতিরিক্ত মদ্যপান এড়ানো
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
  • দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

এসব অভ্যাস শুধু প্রজনন ক্ষমতা নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

বডিবিল্ডিং ও শরীর গঠনের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পুরুষ টেস্টোস্টেরন ইনজেকশন ও অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন।

কিন্তু চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এসব ওষুধ শরীরের স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

পরবর্তীতে অনেকে আবার অনলাইনে পাওয়া তথাকথিত “ফার্টিলিটি স্ট্যাক” ব্যবহার শুরু করেন, যার মধ্যে HCG ও HMG-এর মতো ওষুধ থাকে।

চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া এসব ওষুধ ব্যবহার করলে রক্ত জমাট বাঁধা, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, এমনকি পুরুষের স্তন অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাওয়ার মতো জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

জামাল (ছদ্মনাম) নামের এক ব্যক্তি বডিবিল্ডিংয়ের জন্য দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহার করেছিলেন। পরে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে তিনি জানতে পারেন, তার প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনলাইন ফোরাম ও ইউটিউব দেখে তিনি বিভিন্ন ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

চিকিৎসকের পরামর্শে সব ধরনের ওষুধ বন্ধ করার পর ধীরে ধীরে তার শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনও সময় লাগছে।

ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপ্রমাণিত তথ্যের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে।

যদি কেউ দীর্ঘদিন সন্তান ধারণে সমস্যার মুখোমুখি হন, কিংবা নিজের উর্বরতা নিয়ে বাস্তব উদ্বেগ থাকে, তাহলে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একজন যোগ্য ইউরোলজিস্ট, অ্যান্ড্রোলজিস্ট বা প্রজনন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা।

অণ্ডকোষে বরফ লাগানো, রেড লাইট থেরাপি ব্যবহার কিংবা অনলাইনে প্রচারিত বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ—এসব পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসাই এখন পর্যন্ত পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ইন্টারনেটের ভাইরাল পরামর্শের চেয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর আস্থা রাখাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।