খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

টাইপ ১ নয়, টাইপ ৫ ডায়াবেটিস:ভুল চিকিৎসায় কেন বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি?

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস বলতে সাধারণত টাইপ ১ ও টাইপ ২-ই বেশি পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের আলোচনায় এসেছে আরেকটি ধরন—টাইপ ৫ ডায়াবেটিস। বিশেষজ্ঞদের...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়টাইপ ১ নয়, টাইপ ৫ ডায়াবেটিস:ভুল চিকিৎসায় কেন বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি?

টাইপ ১ নয়, টাইপ ৫ ডায়াবেটিস:ভুল চিকিৎসায় কেন বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি?

ভুল চিকিৎসা গ্রহণের কারণে জটিলতা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস বলতে সাধারণত টাইপ ১ ও টাইপ ২-ই বেশি পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের আলোচনায় এসেছে আরেকটি ধরন—টাইপ ৫ ডায়াবেটিস। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির কারণে এই ধরনের ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। যদিও এটি এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) এটিকে একটি স্বতন্ত্র ডায়াবেটিসের ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ হয়তো এই রোগে আক্রান্ত হলেও সঠিকভাবে শনাক্ত না হওয়ায় তারা উপযুক্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে ভুল চিকিৎসা গ্রহণের কারণে জটিলতা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

টাইপ ৫ ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যা দীর্ঘদিনের অপুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে শরীরের অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস ঠিকমতো বিকশিত হতে পারে না। এই অঙ্গ থেকেই ইনসুলিন তৈরি হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

অপুষ্টির কারণে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে কিছু ইনসুলিন তৈরি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট হয় না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো বলছে, টাইপ ৫ ডায়াবেটিসকে আলাদা রোগ হিসেবে নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন মনে করছে, এই রোগের বৈশিষ্ট্য অন্যান্য ধরনের ডায়াবেটিস থেকে যথেষ্ট আলাদা।

গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির কারণে এই রোগের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

ডায়াবেটিসের প্রতিটি ধরনের কারণ এক নয়।

টাইপ ১ ডায়াবেটিসে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষ ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীর একেবারেই ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসে শরীর ইনসুলিন তৈরি করলেও সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। একে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়।

অন্যদিকে টাইপ ৫ ডায়াবেটিসে মূল সমস্যা তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির কারণে। এতে অগ্ন্যাশয় ঠিকমতো বিকশিত না হওয়ায় পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন সম্ভব হয় না। তবে শরীরে কিছু ইনসুলিন থেকে যায় এবং রোগীরা অনেক সময় ইনসুলিনের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।

এই রোগের লক্ষণ অনেকটাই অন্যান্য ধরনের ডায়াবেটিসের মতো হওয়ায় সহজেই বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অতিরিক্ত তৃষ্ণা লাগা
  • বারবার প্রস্রাব হওয়া
  • দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
  • সব সময় দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা
  • অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করা
  • ঝাপসা দেখা
  • ক্ষত শুকাতে দীর্ঘ সময় লাগা
  • ঘন ঘন সংক্রমণ হওয়া

অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা অল্প বয়সী এবং স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ওজনের হন। এই কারণেই চিকিৎসকেরা কখনো কখনো ভুল করে এটিকে টাইপ ১ ডায়াবেটিস হিসেবে ধরে নিতে পারেন।

টাইপ ৫ ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না। উপসর্গের মিল থাকার কারণে অনেক রোগীকে টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

কিন্তু এই রোগীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত মাত্রার ইনসুলিন সব সময় নিরাপদ নাও হতে পারে। কারণ তাদের শরীর ইনসুলিনের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হতে পারে।

ফলে স্বাভাবিক ডোজের ইনসুলিনও রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। এই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যায়।

এর ফলে রোগীর মধ্যে দেখা দিতে পারে—

  • মাথা ঘোরা
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • হাত কাঁপা
  • বিভ্রান্তি
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • খিঁচুনি
  • গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যু

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল চিকিৎসার কারণে কিছু রোগী ঘুমের মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। তাই রোগটি সঠিকভাবে শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টাইপ ৫ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু ইনসুলিন দেওয়াই সব রোগীর জন্য সঠিক সমাধান নয়।

রোগীর পুষ্টিগত অবস্থা মূল্যায়ন, সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা, শরীরের ইনসুলিন উৎপাদনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা এবং ব্যক্তিভেদে চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি।

এ কারণে প্রতিটি রোগীর জন্য একই ধরনের চিকিৎসা কার্যকর নাও হতে পারে।

অন্যান্য ধরনের ডায়াবেটিসের মতো টাইপ ৫ ডায়াবেটিসও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।

এর ফলে হতে পারে—

  • দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া বা অন্ধত্ব
  • কিডনি বিকল হওয়া
  • স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি
  • পায়ে ক্ষত তৈরি হয়ে দীর্ঘদিন না শুকানো
  • সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া
  • গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গ কেটে ফেলার প্রয়োজন হওয়া

তাই উপসর্গকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

যেসব মানুষ দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে ভুগেছেন, শৈশব থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাননি বা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ওজনের, তাদের মধ্যে টাইপ ৫ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেশি থাকতে পারে।

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে গবেষকেরা মনে করছেন।