জেলা প্রতিনিধি, ১২ সেপ্টেম্বর, এনবি সংবাদ : যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে শিশুসহ প্রায় ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বর্তমানে আক্রান্তরা শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। কুকুরের এমন তাণ্ডবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শার্শা ও বেনাপোল পৌর সভা এলাকায় ব্যাপক হারে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রপ। প্রতিদিন এসব বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে আতংকে চলাচল করছে এলাকার সাধারণ মানুষ। গত দুই মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুসহ প্রায় ৬ শতাধিক মানুষকে কামড়িয়েছে বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর। বর্তমানে এক প্রকার কুকুর আতংকে বিরাজ করছে এই উপজেলার মানুষের মাঝে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও রাস্তা দিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে। কুকুরগুলো স্কুলে যাওয়া শিশুদের তাড়া করছে প্রতিনিয়ত। কুকুরের ভয়ে অনেকে মা-বাবা ছাড়া স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার হাটবাজার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের মোড়ে মোড়ে দল বেধে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে কুকুরের উপদ্রপ। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সরকারিভাবে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না থাকায় বেওয়ারিশপাগলা কুকুরের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্শন করছেন এলাকাবাস।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কুকুরের কামড়ে আহত রোগীরা যা বললেন, এলাকায় কুকুরের উৎপাত অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রামের দিকে কুকুরগুলো মানুষকে, এমনকি ছোট বাচ্চাদেরও আক্রমণ করছে। আমাকেও একটি কুকুর কামড় দিয়েছে, তাই ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছি। শুধু আমাকে নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের অনেক মানুষকেও কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় কুকুরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণ করুক।”
এলাকাবাসীরা বলছেন, আক্রমণাত্মক কুকুরের ভয়ে মানুষ এখন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। দলবদ্ধ কুকুরগুলো হঠাৎ করে গ্রামে ঢুকে মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। দ্রুত এর সমাধান চাই স্থানীয় সচেতন মহল ।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, ‘গত দুই মাসে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে এসেছেন। আমরা সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও সরকারিভাবে সরবরাহকৃত ভ্যাকসিন দিয়ে যাচ্ছি। কুকুরে কামড়ালে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে আসা উচিত।
এছাড়া আক্রান্ত স্থানটি অন্তত ১৫ মিনিট ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুলে ভাইরাসের তীব্রতা অনেক কমে যায়।’ হাসপাতালে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা , ফজলে ওয়াহিদ বলেন, বেওয়ারিশ বা পাগলা কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পোষা কুকুরকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার পাশাপাশি অপরিচিত কুকুরের থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেন তিনি। দু একদিনের ভিতরে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান তিনি।



