নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। তাদের কাছ থেকে মোট ৮৬১.৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. নাসির মোল্লা, সোহাগ শেখ ও মো. হাছান মিয়া। পুলিশের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনার কথা জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোলচত্বরসংলগ্ন উত্তর পাশের ফুটপাতে তিন ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
এ সময় সেখানে দায়িত্ব পালনরত এয়ারপোর্ট এপিবিএনের সদস্যরা তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনজন সেখান থেকে কৌশলে পালানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে এপিবিএনের সদস্যরা তাদের আটক করেন।
পরে আটক তিনজনের শরীর তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ৮৬১.৮ গ্রাম।
আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারগুলো ২১ ও ২২ ক্যারেটের। সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে স্বর্ণ আনা-নেওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে এপিবিএন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পুলিশকে জানিয়েছেন, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। এরপর চোরাচালানের উদ্দেশ্যে তারা এসব স্বর্ণ নিজেদের হেফাজতে রাখেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরভিত্তিক চোরাচালান চক্রগুলো অনেক সময় বিদেশফেরত যাত্রীদের ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিমানবন্দর এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাফেরা ও আচরণের ওপর নজরদারি রাখা হয়।
এই ঘটনায় আটক তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর ১১ সেপ্টেম্বর আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্বর্ণ দেশে এনে নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের সহযোগিতায় পরস্পরের যোগসাজশে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অবৈধ পন্থায় স্বর্ণ নিয়ে আসেন। একই সঙ্গে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫-ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পর উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের আপস করতে চান না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্বর্ণ ও মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে এপিবিএন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালিত হতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


