সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeট্রেন্ডিং নিউজApple ফোল্ডেবল আইফোন ডুয়ো আসছে, দাম হতে পারে ২,০০০ ডলার

Apple ফোল্ডেবল আইফোন ডুয়ো আসছে, দাম হতে পারে ২,০০০ ডলার

দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে নানা ধরনের নাম শোনা যাচ্ছে। কখনো ‘আইফোন ফোল্ড’, আবার কখনো ‘আইফোন আলট্রা’ নামটি আলোচনায় এসেছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপল নতুন এই ডিভাইসের নাম আইফোন ডুয়ো রাখতে পারে।

আইটি ডেক্স : অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ঘিরে প্রযুক্তি দুনিয়ায় জল্পনা-কল্পনা যেন শেষই হচ্ছে না। নতুন একগুচ্ছ গুজব ও ফাঁস হওয়া তথ্য দাবি করছে, অ্যাপলের বহু প্রতীক্ষিত ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের নাম হতে পারে আইফোন ডুয়ো। ডিভাইসটির প্রাথমিক দাম ২,০০০ মার্কিন ডলার থেকে শুরু হতে পারে। পাশাপাশি এতে অ্যাপল পেন্সিল ব্যবহারের সুবিধাও যুক্ত হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অ্যাপলের নতুন পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে এসব তথ্য সামনে এসেছে। ফলে আইফোন প্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি। তাই এগুলোকে এখনো গুজব বা সম্ভাব্য তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে নানা ধরনের নাম শোনা যাচ্ছে। কখনো ‘আইফোন ফোল্ড’, আবার কখনো ‘আইফোন আলট্রা’ নামটি আলোচনায় এসেছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপল নতুন এই ডিভাইসের নাম আইফোন ডুয়ো রাখতে পারে।

‘ডুয়ো’ নামটি ভাঁজযোগ্য ফোনের দুই অংশের নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। যদিও নামটি নিয়ে এখনো অ্যাপলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

নতুন গুজব অনুযায়ী, ফোনটিতে বড় ডিসপ্লে, ভাঁজ করার সুবিধা এবং প্রিমিয়াম হার্ডওয়্যার থাকবে। ফলে এটি সাধারণ আইফোনের তুলনায় অনেক বেশি দামি হতে পারে।

ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনা হচ্ছে এর সম্ভাব্য দাম। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম শুরু হতে পারে ২,০০০ মার্কিন ডলার থেকে।

প্রথমদিকে অ্যাপল ডিভাইসটির দাম ২,০০০ ডলারের নিচে রাখার পরিকল্পনা করেছিল বলে দাবি করা হলেও বিভিন্ন উৎপাদন ব্যয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যার কারণে সেই পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কারণে মেমোরি ও র‍্যামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যন্ত্রাংশের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে অন্যান্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় যোগ হওয়ায় ফোল্ডেবল আইফোনের দাম বাড়তে পারে।

অ্যাপল নিজেদের কিছু খরচ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ওপর পড়তে পারে।

যারা বেশি স্টোরেজ চান, তাদের জন্য আইফোন ডুয়োর দাম আরও অনেক বেশি হতে পারে। গুজব অনুযায়ী, ২ টেরাবাইট স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৩,০০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

এ ধরনের দাম হলে আইফোন ডুয়ো অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্মার্টফোনগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। ফোল্ডেবল ফোনের উন্নত ডিসপ্লে, বিশেষায়িত হিঞ্জ, শক্তিশালী প্রসেসর এবং বেশি স্টোরেজের কারণে উৎপাদন খরচও সাধারণ আইফোনের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে অ্যাপলের মূল্য নির্ধারণ কৌশল এবং বিভিন্ন বাজারে কর ও অন্যান্য খরচের ওপর।

আইফোন ডুয়োর সম্ভাব্য বাজারজাতের সময় নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডিভাইসটির প্রাথমিক চালান অক্টোবরের শুরুতে শুরু হতে পারে।

সাধারণত অ্যাপল সেপ্টেম্বর মাসে নতুন আইফোন বাজারে আনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি শুরু করে। কিন্তু ফোল্ডেবল আইফোনের ক্ষেত্রে উৎপাদন জটিলতা বেশি হওয়ায় সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

যদি অক্টোবরের শুরুতে বিক্রি শুরু হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের নিয়মিত আইফোন বিক্রির সময়সূচি থেকে এটি আলাদা হতে পারে।

আইফোন ডুয়োতে অ্যাপল পেন্সিল সাপোর্ট থাকবে কি না, সেটি নিয়েও আগে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। আগের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, অ্যাপল এই সুবিধা বাদ দিয়েছে।

তবে সর্বশেষ গুজব সেই ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। নতুন প্রতিবেদনে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, ফোল্ডেবল আইফোনে অ্যাপল পেন্সিল ব্যবহারের সুবিধা থাকতে পারে।

এটি সত্য হলে বড় পর্দার ফোল্ডেবল আইফোনকে শুধু যোগাযোগ বা বিনোদনের ডিভাইস হিসেবে নয়, নোট নেওয়া, আঁকা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের জন্যও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যারা আইপ্যাডে অ্যাপল পেন্সিল ব্যবহার করেন, তাদের কাছে এই ফিচারটি আকর্ষণীয় হতে পারে।

রঙের ক্ষেত্রেও আইফোন ডুয়োতে বড় ধরনের বৈচিত্র্য নাও থাকতে পারে। সর্বশেষ গুজব বলছে, ফোনটি মাত্র দুটি রঙে সাদা ও গাঢ় নীল বাজারে আসতে পারে।

অনেকেই ধারণা করেছিলেন, অ্যাপল হয়তো সাদা ও কালোর পাশাপাশি আরও কোনো রঙের সংস্করণ আনবে। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কালো রঙও বাদ পড়তে পারে।

অবশ্য অ্যাপল শেষ মুহূর্তে রঙের তালিকায় পরিবর্তন আনবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।

ফোল্ডেবল আইফোনের পাশাপাশি অ্যাপলের বিশেষ অনুষ্ঠানে আরও কয়েকটি নতুন পণ্য উন্মোচনের গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৮ প্রো, এয়ারপডস ৫, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪।

গুজব অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার ক্যামেরা প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ফোনের বেস স্টোরেজ সংস্করণের দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, নতুন অ্যাপল ওয়াচ মডেলগুলোতে বড় ধরনের হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের বদলে ধাপে ধাপে উন্নতি আনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে নতুনভাবে সাজানো অ্যাপল হেলথ অ্যাপ। তবে নতুন কোনো স্বাস্থ্য সেন্সর যুক্ত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

নতুন এয়ারপডস ৫ নিয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। গুজব বলছে, এতে আগের সংস্করণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন বা ANC প্রযুক্তি থাকবে।

এয়ারপডস ৪-এর মতো নতুন মডেলটিও দুটি আলাদা সংস্করণে আসতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্করণ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

অ্যাপলের আসন্ন ইভেন্টে আরও কিছু হার্ডওয়্যার আসতে পারে বলে অনেকে আশা করলেও সর্বশেষ তথ্য সেই সম্ভাবনাকে খুব বেশি জোরালো করছে না।

বিশেষ করে নতুন অ্যাপল টিভি ৪কে বা কোনো নতুন হোম হাব উন্মোচনের সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এবারের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ আইফোন ও অন্যান্য বহুল প্রত্যাশিত ডিভাইসগুলোই হতে পারে।

অ্যাপলের বড় কোনো পণ্য উন্মোচনের আগে গুজব ও ফাঁস হওয়া তথ্য নতুন কিছু নয়। তবে এবারের ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে আলোচনা আলাদা মাত্রা পেয়েছে। সম্ভাব্য নাম, দাম, স্টোরেজ, রঙ এবং অ্যাপল পেন্সিল সাপোর্ট প্রায় প্রতিটি বিষয় নিয়েই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ