আন্তর্জাতিক ডেক্স, ৮ সেপ্টেম্বর : ভারতের হিন্দি টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস্ ২০’ শুরু হওয়ার পর থেকেই জমে উঠেছে নাটক, সম্পর্ক, মতবিরোধ ও নানা মন্তব্য। সলমন খানের সঞ্চালনায় নতুন মৌসুমের শুরুতেই প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী মাহী বিজ। আর সেই আলোচনার মধ্যেই সহ-প্রতিযোগীদের বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গ।
‘বিগ বস্’ ২০-এর ঘরে মাহী বিজ, অভিনেত্রী ঈশা রিখী এবং বক্সিং তারকা মেরি কম তিনজনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই ইতিমধ্যে দর্শকদের মাঝে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ উঠে আসতেই পরিস্থিতি অনেকটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
‘বিগ বস্ ২০’-এর একটি আলোচনায় মাহীকে তাঁর বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করেন সহ-প্রতিযোগী কণিকা। তবে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তখন বিস্তারিত কথা বলতে চাননি তিনি। পরে ঈশার সঙ্গে গল্প করার সময় অবশ্য মাহী জানান, গসিপ করতে তাঁর ভালোই লাগে।
সেই আড্ডাতেই মাহী সহ-প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তিনি ঈশাকে বাইরে কার সঙ্গে কার প্রেমের সম্পর্ক চলছে, সে বিষয়ে জানতে চান। এরপরই মাহী বলেন, অনুষ্ঠানে তিনজন বিবাহবিচ্ছিন্ন নারী রয়েছেন ঈশা, তিনি নিজে এবং মেরি কম। মজার ছলে তিনি পরিস্থিতিকে ‘ডিভোর্সি স্পেশ্যাল’ এবং তাঁদের জীবনের ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মাহীর এই মন্তব্যই পরে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। কারণ, যাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে তিনি কথা বলছিলেন, তাঁদের কেউই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন না।
মাহীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় ঈশা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজের ব্যক্তিগত বিষয় সাধারণ মানুষের নজর থেকে দূরে রেখেছেন। অনেকেই তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঈশার বক্তব্য ছিল, তিনি কারও প্রেমিকা কিংবা কারও স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হতে চান না। নিজের কাজ এবং নিজের পরিচয়ের মাধ্যমেই মানুষের কাছে পরিচিত হতে চান তিনি।
মাহীর সঙ্গে কথোপকথনে ঈশা আরও জানান, গত কয়েক মাসে তাঁকে নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিচয়ের চেয়ে নিজের আলাদা পরিচয় প্রতিষ্ঠাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর মাহী বিজের প্রশ্নের মুখে পড়েন মেরি কম। বক্সিং তারকার ব্যক্তিগত জীবন এবং বিচ্ছেদ নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন মাহী। কিন্তু মেরি স্পষ্টভাবে সেই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে রাজি হননি।
মাহী তখন মন্তব্য করেন, প্রাক্তন সঙ্গী সম্পর্কে সবসময় নেতিবাচক কথা বলার প্রয়োজন নেই। সম্পর্কের মধ্যে ভালো দিকও থাকতে পারে বলে তিনি মত দেন।
তবে এই আলোচনা ঈশার কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তাঁর প্রশ্ন ছিল, যখন সংশ্লিষ্ট দুজনই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না, তখন কেন বারবার সেই বিষয় সামনে আনা হচ্ছে?
ঈশার এই প্রশ্নের পরই কথোপকথনের পরিবেশ বদলে যায়। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা কতটা করা উচিত এবং একজন প্রতিযোগীর ব্যক্তিগত সীমারেখাকে কতটা সম্মান করা প্রয়োজন তা নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক।
মাহী বিজের মন্তব্যের সঙ্গে তাঁর নিজের ব্যক্তিগত জীবনও জড়িয়ে রয়েছে। অভিনেতা জয় ভানুশালীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল মাহীর। ২০১১ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ১৪ বছরের দাম্পত্যের পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
তবে সম্পর্কের সমাপ্তি হলেও তাঁদের সন্তানকে ঘিরে দায়িত্ব পালনে দুজনেই একসঙ্গে রয়েছেন। মেয়ের দায়িত্ব তাঁরা যৌথভাবেই পালন করছেন।
ফলে ‘বিগ বস্’-এর ঘরে বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গে মাহীর মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই তাঁর নিজের জীবন নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ঈশা রিখীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। র্যাপার বাদশার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিন অনেকটাই আড়ালে ছিল। পরে ২০২৬ সালের মার্চে ঈশার মায়ের পোস্ট করা একটি ছবির মাধ্যমে তাঁদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে।
কিন্তু সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে। বাদশাই পরবর্তীতে বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে জানান।
এই কারণেই ‘বিগ বস্ ২০’-তে ঈশার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা হলে বিষয়টি দ্রুত দর্শকদের নজরে আসে। তবে ঈশা যে নিজের পরিচয়কে সম্পর্কের পরিচয়ের চেয়ে আলাদা রাখতে চান, তা তিনি অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ভারতের কিংবদন্তি বক্সার মেরি কমের ব্যক্তিগত জীবনও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। ২০০৫ সালে কারুং ওঙ্খোলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের চার সন্তান রয়েছে।
দীর্ঘ দাম্পত্যের পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পারিবারিক ও সম্প্রদায়ের প্রবীণদের উপস্থিতিতে পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে ২০২৫ সালে মেরি কম প্রকাশ্যে তাঁদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই তুলনামূলকভাবে সংযত মেরি। ফলে ‘বিগ বস্’-এর ঘরে তাঁর বিচ্ছেদ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন ওঠায় তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়াই পছন্দ করেন।
৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে ‘বিগ বস্ ২০’। নতুন মৌসুমে সলমন খান ১৬ জন প্রতিযোগীকে দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। অনুষ্ঠান শুরুর পর থেকেই প্রতিযোগীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, মতবিরোধ এবং নানা ধরনের কথোপকথন সামনে আসতে শুরু করেছে।
প্রথম দিকের পর্বেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। মাহী বিজের মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অবশ্য ‘বিগ বস্’-এর মতো রিয়্যালিটি শোতে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়ই বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি এবং স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ঈশার আপত্তি সেই প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে।
নতুন মৌসুম শুরু হলেও ‘বিগ বস্ ২০’-এর প্রতিযোগীদের তালিকা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, এবারের তালিকায় আগের মৌসুমগুলোর মতো তেমন চমক নেই। আবার অনুষ্ঠান শুরুর পর থেকেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক, তর্ক-বিতর্ক ও নানা নাটকীয়তার কারণে আগ্রহও তৈরি হয়েছে।


