সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeএক্সক্লুসিভবিমানের ককপিটে পাইলটের সিটে বসতে হলে নামতে হবে সমুদ্রের ৭২ ফুট গভীরে!

বিমানের ককপিটে পাইলটের সিটে বসতে হলে নামতে হবে সমুদ্রের ৭২ ফুট গভীরে!

বিমানটিকে বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে তুরস্কের কুসাদাসি শহরের কাছে এজিয়ান সাগরের জলে নামিয়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে সেটিকে সমুদ্রের তলায় নিয়ে গিয়ে বালির সমুদ্রতলে স্থাপন করা হয়।

বিশ্বজ্যোতি দাস, আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : বিমানের ককপিটে পাইলটের আসনে বসার ইচ্ছা রয়েছে? বিমানের ভিতরের বিশাল জগৎ ঘুরে দেখতেও চান? তাহলে এবার হয়তো আপনাকে আকাশে উঠতে হবে না, বরং নামতে হবে সমুদ্রের গভীরে! অবাক লাগলেও এমনই এক অভিনব পর্যটন আকর্ষণ তৈরি হয়েছে তুরস্কে, যেখানে সমুদ্রের প্রায় ৭২ ফুট গভীরে একটি আস্ত বিমান ডুবিয়ে রাখা হয়েছে

এখানে ডাইভিং করে সমুদ্রের তলায় পৌঁছনোর পর পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন একটি বড় বিমানের ভিতর। এমনকি সুযোগ রয়েছে বিমানের ককপিটে গিয়ে পাইলটের আসনে বসারও। আকাশে ওড়ার পরিবর্তে সমুদ্রের তলায় বিমানের ভিতরে ঘোরার এই অভিজ্ঞতাই এখন পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

কীভাবে সমুদ্রের তলায় গেল বিমান?

ঘটনার শুরু ২০১৬ সালে। তুরস্ক সরকারের উদ্যোগে একটি বড় এয়ারবাস A300 বিমানকে সমুদ্রের জলে ডুবিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিমানটি আর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। ফলে সেটিকে ফেলে না দিয়ে অন্য কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিমানটিকে সমুদ্রের তলায় নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তুরস্ক সরকার।

এর ফলে একদিকে পুরনো বিমানটির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে তৈরি হয় এক অভিনব পর্যটন আকর্ষণ।

এজিয়ান সাগরের তলায় বিমান

বিমানটিকে বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে তুরস্কের কুসাদাসি শহরের কাছে এজিয়ান সাগরের জলে নামিয়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে সেটিকে সমুদ্রের তলায় নিয়ে গিয়ে বালির সমুদ্রতলে স্থাপন করা হয়।

জলের প্রায় ৭২ ফুট নিচে থাকা এই বিমান পরে ডাইভারদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

সমুদ্রের নিচে ডাইভিং করতে আসা পর্যটকরা শুধু চারপাশের সামুদ্রিক পরিবেশ উপভোগ করেন না, তাঁরা বিমানের কাছেও পৌঁছে যেতে পারেন। অভিজ্ঞ ডাইভারদের জন্য বিমানের ভিতরে ঢুকে সেটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে।

ককপিটে গিয়ে বসার সুযোগ

এই ডুবন্ত বিমানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলির একটি হল ককপিট।

ডাইভ করে বিমানের ভিতরে পৌঁছনোর পর পর্যটকরা ককপিট দেখতে পারেন। পাইলটরা যেখানে বসে বিমান পরিচালনা করতেন, সেই জায়গাটিও তাঁদের কাছে আকর্ষণের বিষয়।

ফলে আকাশে ওড়ার বিমানের ককপিটে বসার অভিজ্ঞতা এখানে পাওয়া যায় সম্পূর্ণ অন্যভাবে—সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে!

একজন বিমানপ্রেমীর কাছে এমন অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। আবার ডাইভিংপ্রেমীদের জন্যও এটি পানির নিচে নতুন ধরনের অ্যাডভেঞ্চারের সুযোগ তৈরি করেছে।

পুরনো বিমান থেকেই তৈরি পর্যটনকেন্দ্র

একটি পুরনো বিমান সাধারণত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেলে সেটিকে সরিয়ে ফেলা বা ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হয়। কিন্তু তুরস্কে সেই বিমানকেই কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে অভিনব একটি ডাইভিং স্পট।

এতে একই সঙ্গে দুটি উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। একদিকে আর ব্যবহারযোগ্য নয় এমন একটি বড় বিমানকে অন্যভাবে কাজে লাগানো হয়েছে, অন্যদিকে সমুদ্রের নিচে তৈরি হয়েছে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ।

কেন ডুবিয়ে রাখা হয় বিমান?

সমুদ্রের নিচে বড় কোনও বস্তু বা কাঠামো স্থাপন করলে সেটি সময়ের সঙ্গে সামুদ্রিক প্রাণীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে। ডুবন্ত বিমানকে ঘিরে সামুদ্রিক পরিবেশও তৈরি হতে পারে, যা ডাইভারদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়।

তবে এমন প্রকল্পে পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের তলায় কোনও বড় কাঠামো স্থাপনের আগে সেটি সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পর্যটকদের কাছে বাড়ছে আকর্ষণ

সমুদ্রের তলায় একটি আস্ত বিমান—এই দৃশ্যই পর্যটকদের কৌতূহল তৈরি করার জন্য যথেষ্ট। তার সঙ্গে যদি বিমানের ভিতরে ঢোকার এবং ককপিট ঘুরে দেখার সুযোগ থাকে, তাহলে আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়।

তাই কুসাদাসির কাছে সমুদ্রের তলায় থাকা এই বিমান ধীরে ধীরে ডাইভিংপ্রেমী এবং পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

আকাশে ওড়ার জন্য তৈরি একটি বিশাল বিমান এখন সমুদ্রের ৭২ ফুট নিচে পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছে। পাইলটের আসনে বসার সেই অভিজ্ঞতাও মিলছে এমন এক জায়গায়, যেখানে সাধারণত বিমানের থাকার কথা নয়—সমুদ্রের তলদেশে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ