আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের বিপুল পরিমাণ সোনা পাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা মূল্যের সোনার বিস্কুট উদ্ধার করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সীমান্ত দিয়ে সোনা পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। বাংলাদেশের দিক থেকে পুটলিতে বেঁধে সোনার বিস্কুট কাঁটাতারের ওপর দিয়ে ভারতের দিকে পাঠানোর চেষ্টা চলছিল। সীমান্তে নজরদারিতে থাকা বিএসএফ জওয়ানদের নজরে বিষয়টি আসতেই তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের দিক থেকে একটি পুটলিতে করে সোনার বিস্কুট ভারতের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। সীমান্তে দায়িত্বে থাকা জওয়ানরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে সতর্ক হয়ে যান।
এরপর দ্রুত অভিযান চালিয়ে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, সীমান্তের ওপার থেকে এই সোনা ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তল্লাশি চালিয়ে ধৃত ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৮৯টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন ১১ হাজার ২৮১.৭৭০ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ১১ কেজি ২৮২ গ্রাম।
পরীক্ষার পর উদ্ধার হওয়া সোনাগুলি ২৪ ক্যারেটের বলে জানা যায়। বিপুল পরিমাণ এই সোনা কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং সীমান্ত পার করার পর কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিএসএফের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ২১ হাজার ৩০২ টাকা।
একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান চক্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, এই পাচারের সঙ্গে আর কারা জড়িত।
শুধু সোনা উদ্ধার এবং একজনকে আটকের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকছে না। এই ঘটনার পেছনে থাকা পুরো পাচারচক্রের সন্ধান করার চেষ্টা চলছে।
ধৃত বাংলাদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে সোনা পাচারের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সোনা কারা পাঠিয়েছিল এবং ভারতে কার কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, সেই বিষয়টি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সীমান্ত দিয়ে সোনা পাচারের ক্ষেত্রে সাধারণত একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা থাকে। তাই ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে আরও কেউ এই চক্রে জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই সোনা-সহ নানা ধরনের অবৈধ সামগ্রী পাচারের অভিযোগ ওঠে। ফলে সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নদিয়ার এই ঘটনায়ও জওয়ানদের নজরদারির কারণেই পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কাঁটাতারের ওপর দিয়ে পুটলি পাঠানোর সময় বিষয়টি নজরে আসায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
সোনা বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি আটক বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনার বিস্কুটগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এই পাচারের সঙ্গে সীমান্তের দুই পাশের আরও কেউ যুক্ত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সোনা ভারতে কোন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, সেই তথ্য বের করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
নদিয়ায় প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকার সোনা উদ্ধারের ঘটনা সীমান্তে পাচারকারীদের সক্রিয়তার বিষয়টি আবারও সামনে আনল। বিপুল পরিমাণ ২৪ ক্যারেট সোনা উদ্ধার এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতারের পর এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য পুরো পাচারচক্রের হদিস বের করা।




