আন্তর্জাতিক ডেক্স, ৭ সেপ্টেম্বর : ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল ছাত্রাবাস ধসে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এ ঘটনায় আরও বহু শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও উদ্ধারকারী দল।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (এআইআইএমএস) ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন আরও এক আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এর ফলে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুরে দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ছাত্রাবাস ভবনটি ধসে পড়ে। দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটের দিকে নয়াদিল্লির দক্ষিণ ক্যাম্পাস থানায় ভবনধসের খবর পৌঁছায়।
ধসের সময় ভবনের ভেতরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ভবনে প্রকৃতপক্ষে কতজন শিক্ষার্থী ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটি ছেলেদের পেইং গেস্ট বা পিজি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানিয়েছেন, ভবনটির নাম ছিল ‘হোস্টেল ডেজ’। ভবনটি পাঁচতলা ছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। যদিও প্রাথমিক প্রতিবেদনে ভবনটিকে ছয়তলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ভবনধসের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। এখন পর্যন্ত ১১ শিক্ষার্থীকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের সন্ধান করছে। ভবনের কাঠামো নড়বড়ে হয়ে থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালাতে হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা শনাক্ত করতে উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতার’ মতো গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকাজে একাধিক সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তাদের মধ্যে রয়েছে দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ), জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ এবং দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এমসিডি)।
এ ছাড়া সিটিএস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, মূল ভবনের পাশাপাশি পাশের একটি ভবনের অংশও ধসে পড়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, ধসের সময় অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের কক্ষে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ভবনের বিভিন্ন অংশের নিচে শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ বেশি হওয়ায় উদ্ধারকারীদের কাজ করতে সময় লাগছে।
ভবনে থাকা শিক্ষার্থীর সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে পেইং গেস্টের নিবন্ধন রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এদিকে সত্য নিকেতনে ছাত্রাবাস ধসের ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ করেছেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কর্মীরা।
বিক্ষোভকারীরা দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সিভিক সেন্টারে অবস্থিত কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন বলে জানা গেছে। তারা ভবনধসের ঘটনায় এমসিডির কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা ও অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে তদারকি করা প্রয়োজন ছিল। ভবনধসের প্রকৃত কারণ এবং ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি উঠেছে।



