সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeজাতীয়নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়ছে, আগের হারেই ভাতা

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়ছে, আগের হারেই ভাতা

অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বেতন ও ভাতাদি আদেশে নির্ধারিত মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারে ভাতা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া চললেও ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আপাতত আগের নিয়ম অনুসরণ করা হবে।

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ বাংলা ডেস্ক : নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলেও আপাতত আগের নিয়মেই ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা এখনই বাড়ছে না। পরবর্তী সরকারি আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩০ জুন যে হারে ভাতা দেওয়া হয়েছে, সেই হারেই ভাতা পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এদিন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্যও এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন এই নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

তবে ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলেও চলতি মাসের শেষ দিকে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়লেও ভাতার ক্ষেত্রে আগের হারই বহাল থাকছে।

অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বেতন ও ভাতাদি আদেশে নির্ধারিত মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারে ভাতা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া চললেও ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আপাতত আগের নিয়ম অনুসরণ করা হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই বেতন ও ভাতা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ভাতাও বাড়বে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন ছিল।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপাতত সেই প্রশ্নের একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, মূল বেতন ও ভাতা একই সময়ে একই হারে বাড়ছে না। মূল বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত হলেও ভাতার ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তখনই জানানো হয়েছিল, ভাতা পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করা হবে। ফলে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক সুবিধা একযোগে কার্যকর হচ্ছে না।

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নতুন বেতনকাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে একটি নতুন কাঠামো কার্যকর করা। এর মাধ্যমে বেতন নির্ধারণ ও পরিশোধের প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এ কারণে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং পুরো বর্ধিত বেতন পাওয়ার সময়ের মধ্যে পার্থক্য থাকছে। নতুন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থাকলেও সব সুবিধা একসঙ্গে চালু হচ্ছে না।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পদ, গ্রেড ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আপাতত আগের হার বহাল থাকবে। ফলে একজন কর্মচারীর মোট মাসিক বেতন কত হবে, তা নির্ভর করবে তাঁর নির্ধারিত মূল বেতন এবং প্রযোজ্য ভাতার ওপর।

সরকার নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে বেতন প্রদানের পরিকল্পনা করেছে। ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ অর্থবছরে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন মূল বেতন বাস্তবায়নের সময়সূচি তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে এবং চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে, যা চলবে ওই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। তৃতীয় ধাপ কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

অন্যদিকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকর করার নির্ধারিত তারিখ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি। অর্থাৎ, মূল বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হলেও ভাতা সমন্বয়ের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই সময়সূচির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতার পরিবর্তন একই সময়ে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে না। নতুন মূল বেতন নির্ধারণের পরও ভাতা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ অনলাইনে দ্রুতগতিতে চলছে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে পে ফিক্সেশন। এর মাধ্যমে প্রত্যেক কর্মচারীর জন্য নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রযোজ্য মূল বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা আইবাস++ (iBAS++) ব্যবহার করে কর্মচারীরা প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিচ্ছেন। গত ৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে তথ্য ফরম পূরণের কার্যক্রম শুরু হয়।

নির্ধারিত তথ্য যাচাই ও জমা দেওয়ার মাধ্যমে কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার এ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হলে কোন কর্মচারী নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী কত টাকা মূল বেতন পাবেন, তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রদান এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অনলাইন ব্যবস্থার ব্যবহার সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজকে আরও সুশৃঙ্খল করার একটি পদক্ষেপ। তবে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়া এবং বর্ধিত বেতন হাতে পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। বেতন নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অক্টোবর মাসের শেষ দিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতন পেতে পারেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দও রাখা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম পর্যায়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাড়তি মূল বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাতাও বাড়বে, এমনটি নয়। ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আপাতত আগের হার অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ