খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

টাইপ ১ নয়, টাইপ ৫ ডায়াবেটিস:ভুল চিকিৎসায় কেন বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি?

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস বলতে সাধারণত টাইপ ১ ও টাইপ ২-ই বেশি পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের আলোচনায় এসেছে আরেকটি ধরন—টাইপ ৫ ডায়াবেটিস। বিশেষজ্ঞদের...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়ডেঙ্গু পরিস্থিতি কেন ভয়াবহ হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের নতুন সতর্কবার্তা

ডেঙ্গু পরিস্থিতি কেন ভয়াবহ হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের নতুন সতর্কবার্তা

চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ছয় হাজার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশে সংক্রামক রোগের চাপ এখনও পুরোপুরি কমেনি। হামের প্রকোপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এখন নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার মৌসুম জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই শনাক্ত হয়েছেন গত এক মাসের মধ্যে। একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যাও আগের কয়েক মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অনেক বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে থাকা, ছাদে বা বাড়ির আশপাশে অব্যবহৃত পাত্রে পানি জমে থাকা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভাব—এসব কারণে মশার বিস্তার আরও সহজ হয়ে যায়।

এর পাশাপাশি জলবায়ুর পরিবর্তনও ডেঙ্গুর বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। দীর্ঘ সময় ধরে আর্দ্র আবহাওয়া এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

মশাবিজ্ঞানী ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশারের মতে, ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত বর্ষার মাঝামাঝি থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বিশেষ করে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সময় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই এখন থেকেই মশা নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কার কথা সরকারও স্বীকার করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, গত দুই মাস ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য বিশেষ লার্ভিসাইড ট্যাবলেট সংগ্রহের কাজ চলছে, যাতে দ্রুত মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগী দ্রুত শনাক্ত করা গেলে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে অবহেলা করলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা। এজন্য বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির ট্যাংক, এয়ার কুলার, পুরোনো টায়ার কিংবা যেকোনো পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

এছাড়া দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে বাঁচতে পুরো শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা, মশারি ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন হলে মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা বা শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়াই নিরাপদ।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি পরিবার, প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগাম প্রস্তুতি। কারণ রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।