খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

যৌন হয়রানি ঠেকাতে আসছে নতুন আইন ২০২৬

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বন্ধ এবং নারীসহ সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘কর্মক্ষেত্র...
Homeঅর্থ-বানিজ্যরেমিট্যান্সে বড় ধস: ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবাসী আয়

রেমিট্যান্সে বড় ধস: ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবাসী আয়

জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশে টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহের যে ধারা বজায় ছিল, তা ভেঙে গেছে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। এটি শুধু আগের মাস মে মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম নয়, গত আট মাসের মধ্যেও সর্বনিম্ন মাসিক রেমিট্যান্স।

তবে মাসিক হিসাবে প্রবাহ কমলেও পুরো অর্থবছরের চিত্র ভিন্ন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা গেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর আগের মাস মে মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুন মাসে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের জুনেও সামান্য কম রেমিট্যান্স এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত আট মাসের মধ্যে জুন মাসেই সবচেয়ে কম প্রবাসী আয় এসেছে। এর আগে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত প্রতিটি মাসেই রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্র ছিল—

  • ডিসেম্বর: ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার
  • জানুয়ারি: ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার
  • ফেব্রুয়ারি: ৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার
  • মার্চ: ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার (সর্বোচ্চ)
  • এপ্রিল: ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার
  • মে: ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার
  • জুন: ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার

এর ফলে টানা ছয় মাস পর আবারও মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো।

জুন মাসে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেলেও পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জুন মাসে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি মৌসুমি কারণ থাকতে পারে।

ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণত উৎসবের আগে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য বেশি অর্থ পাঠান। ফলে ঈদের পরবর্তী মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কিছুটা কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের স্বাভাবিক ওঠানামাও মাসিক রেমিট্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি কোনো নেতিবাচক সংকেত নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ শুধু লাখো পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে—

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়।
  • আমদানি ব্যয় পরিশোধ সহজ হয়।
  • টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
  • ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধভাবে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ে।
  • দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা এবং আর্থিক খাতের সংস্কারও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি মাসের তথ্য দিয়ে সামগ্রিক প্রবণতা মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার, উৎসবকাল, কর্মসংস্থানের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রেমিট্যান্সের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

তাদের আশা, নতুন অর্থবছরের শুরুতে প্রবাসী আয় আবারও বাড়তে পারে। বিদেশে নতুন কর্মী নিয়োগ, বিদ্যমান শ্রমবাজারের চাহিদা এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।