সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeবিশ্ব সংবাদআল কায়েদার নতুন হুমকি, ফ্লাইদুবাই ঘটনার সঙ্গে যোগের প্রমাণ নেই

আল কায়েদার নতুন হুমকি, ফ্লাইদুবাই ঘটনার সঙ্গে যোগের প্রমাণ নেই

কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী কোনো ঘটনার প্রশংসা করলেই ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় না। ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আল কায়েদার সাংগঠনিক নির্দেশনা বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি।

নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেক্স : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলগামী বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকির খবর সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল কায়েদাপন্থী একটি সাপ্তাহিক প্রকাশনায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে বিমানকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রকাশনায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনাটির প্রশংসাও করা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ঘটনার সঙ্গে আল কায়েদার কোনো সাংগঠনিক বা সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিমানটির ভেতরে কী ঘটেছিল এবং সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আল কায়েদাপন্থী সমর্থকেরা জুলাই থেকে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করছেন। এর সর্বশেষ সংস্করণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে হুমকিসূচক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গও টানা হয়েছে। ওই হামলায় নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে বিমান ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছিল।

নতুন প্রকাশনায় সেই ঘটনার ছবি ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী উগ্র বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আল কায়েদাপন্থী কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলেও এসব বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে সেসব পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনাটিও ওই প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী কোনো ঘটনার প্রশংসা করলেই ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় না। ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আল কায়েদার সাংগঠনিক নির্দেশনা বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি।

তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের পরিকল্পিত হামলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা সতর্কতার সঙ্গে এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। মাঝ আকাশে বিমানের ককপিটে গুরুতর একটি ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকার সময় সহ-পাইলট জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের একটি কুঠার দিয়ে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পাইলট গুরুতর আহত হন। একই সময়ে সহ-পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে আহত হওয়ার পরও পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হন। তিনি কোনোভাবে ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এরপর বিমানের ভেতরে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি অন্যদের নজরে আসে।

ঘটনার পর বিমানটির নিরাপত্তা, ককপিটের প্রোটোকল এবং পাইলটদের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে এসেছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তকারীরা ঘটনার প্রকৃত কারণ, সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য এবং তিনি কীভাবে ককপিটে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।

বিশেষ করে ঘটনাটি ব্যক্তিগত বা মানসিক কোনো কারণে ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে কোনো উগ্রবাদী মতাদর্শ বা সংগঠিত পরিকল্পনা ছিল, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতে এসব প্রশ্নের কোনো চূড়ান্ত উত্তর দেওয়া হয়নি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় জড়িত সহ-পাইলটের মতাদর্শ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন।

ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কারণ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উগ্রবাদী মতাদর্শে যুক্ত থাকার অভিযোগ এবং কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ দুটি বিষয় এক নয়।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বিশ্বের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। ককপিট নিরাপত্তা, যাত্রী যাচাই, বিমানবন্দরের নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সহযোগিতা অনেক বেশি কঠোর করা হয়।

এরপরও মাঝেমধ্যে বিমানকে ঘিরে নিরাপত্তা হুমকি সামনে আসে। বিশেষ করে কোনো উগ্রবাদী সংগঠন যখন বিমানকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে, তখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

সাম্প্রতিক হুমকির ক্ষেত্রেও একইভাবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং এর সঙ্গে কোনো বাস্তব পরিকল্পনার সম্পর্ক আছে কি না এসব বিষয় যাচাই করতে হবে।

টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকেরা প্রচারণামূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। এসব বার্তার অনেকগুলোই কেবল ভয় তৈরি বা সমর্থকদের উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হতে পারে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো হুমকির বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সম্ভাব্য হামলার নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য এমন বক্তব্য পুরোপুরি উপেক্ষা করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

আল কায়েদাপন্থী প্রকাশনায় ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার প্রশংসা করা হয়েছে এমন দাবি সামনে এলেও এর সঙ্গে সংগঠনটির সরাসরি যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তথ্য সূত্র: আনন্দবাজার

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ