সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeবিশ্ব সংবাদইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা অক্ষত, দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতার দাবি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা অক্ষত, দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতার দাবি

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালির দাবি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কোনো খাত নিয়েই ইরান বর্তমানে উদ্বিগ্ন নয়। ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর বড় অংশ দেশটির অভ্যন্তরেই উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেক্স : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র উৎপাদনের সরবরাহব্যবস্থা এখনো সচল রয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সামরিক সক্ষমতাও ইরানের রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের (উপদেষ্টা) কমান্ডারের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন, নিজস্ব প্রযুক্তি এবং বিদেশি চাপের মধ্যেও সামরিক সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালির দাবি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কোনো খাত নিয়েই ইরান বর্তমানে উদ্বিগ্ন নয়। ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর বড় অংশ দেশটির অভ্যন্তরেই উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বালালির ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব উপাদান শুধু দেশের সামরিক চাহিদা পূরণেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, প্রয়োজন হলে সেগুলো রপ্তানিও করা সম্ভব। তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরান সামরিক উৎপাদনব্যবস্থায় বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে ইরানের এই দাবির স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দেশটির সামরিক উৎপাদন অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

ইরানি কর্মকর্তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার ক্ষেত্রে দেশটি নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তাকেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বালালি বলেন, ইরান এখন নিজস্বভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নকশা তৈরি এবং উৎপাদন করতে সক্ষম। সামরিক প্রয়োজন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় উৎপাদন সক্ষমতা ইরানের ভেতরেই ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চাপ বা সরবরাহসংক্রান্ত বাধা এলেও সামরিক উৎপাদন অব্যাহত রাখার সক্ষমতা বজায় রাখতে চায় দেশটি।

আলী বালালি দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইরান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন আর বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।

ইরানের সামরিক শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির প্রতিরক্ষা নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহে বাধার মুখে পড়লেও তেহরান স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে।

বালালির বক্তব্য সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপাদান এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ দপ্তর বিভিন্ন দেশে থাকা ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। তাদের বিরুদ্ধে ইরানের অস্ত্র এবং অস্ত্র তৈরির উপাদান সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

ওয়াশিংটনের এ ধরনের পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহের সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করা। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরবরাহ নেটওয়ার্ককে সীমিত করাই এসব নিষেধাজ্ঞার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের সামরিক উৎপাদনব্যবস্থা সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বালালি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়েছে।

আলী বালালির বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ইরানের দাবি। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।

ইরান এর আগেও নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের সামরিক সরবরাহব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের জন্য বিদেশি প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে ইরান যদি স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় উপাদান উৎপাদনের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা মোকাবিলা করা সম্ভব হতে পারে। বালালির বক্তব্য মূলত এই সক্ষমতার ওপরই জোর দিচ্ছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে কাঁচামাল, প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ধারাবাহিক সরবরাহ প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লে ইরানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে নতুন এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা অক্ষত থাকার কথা জোর দিয়ে জানাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ