সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeজাতীয়রাড্ডা হামলার অভিযোগের পর এমপি পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী মিষ্টি

রাড্ডা হামলার অভিযোগের পর এমপি পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী মিষ্টি

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মিষ্টির নাম আলোচনায় আসার পর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১ অক্টোবর সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, দলীয় হাইকমান্ড তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেছে।

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ বাংলা ডেস্ক : রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ওঠা অভিযোগের মধ্যে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে। সংরক্ষিত নারী আসন-২৩, অর্থাৎ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন নম্বর ৩২৩, এখন শূন্য। সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধান

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই শতাধিক ব্যক্তি সেখানে হামলা চালান। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কয়েকটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন সরঞ্জাম, ওষুধ ও অন্যান্য মালামাল লুটের অভিযোগও সামনে আসে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির জমি ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। সেই সূত্র ধরে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে মিষ্টি শুরু থেকেই

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মিষ্টির নাম আলোচনায় আসার পর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১ অক্টোবর সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, দলীয় হাইকমান্ড তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেছে। পরে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।

দলীয় সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ ভবনে যান মিষ্টি। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত হলে যা বেরিয়ে আসবে, সেটিই বিবেচ্য হবে। এর আগে পদত্যাগের বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি।

এরপর তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জানান, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিজের সিদ্ধান্তে এবং স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সংসদীয় বিধান অনুযায়ী, একজন সদস্য স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা কার্যকর হওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

মিষ্টির পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার পদত্যাগের দিন থেকেই আসনটি শূন্য হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য আসন পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পদত্যাগপত্র দিলে তা স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যায়। ফলে মিষ্টির পদত্যাগের পর তার সংরক্ষিত নারী আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হয়েছে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার মতো প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তদন্তের আগে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না।

অর্থাৎ, মিষ্টির সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ফল হলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনগত দায় নির্ধারণ করবে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া। পদত্যাগ নিজে কোনো ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণের সমান নয়।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কমিটি নিয়েও পরিবর্তনের কথা এসেছে।

একই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা, জমির মালিকানা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে চলতি বছরের মে মাসে তিনি শপথ নেন।

সংসদ সদস্য হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হলো। তার পদত্যাগের ঘটনাটি তাই শুধু একটি সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার ঘটনা নয়; রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হামলা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনার সঙ্গেও এটি সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে।

সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াও চলবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ