সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডক্রিকেটপ্রথমবার বিদেশি লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের আরিফুল ইসলাম

প্রথমবার বিদেশি লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের আরিফুল ইসলাম

ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসা আরিফুলের জন্য এটি ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। নেপাল প্রিমিয়ার লিগের মতো আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ তার অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজবাংলা ডেক্স : বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটার আরিফুল ইসলাম এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বাইরে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে দল পেয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। আসন্ন নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) কর্ণালি ইয়াকসের হয়ে মাঠে নামবেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসা আরিফুলের জন্য এটি ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। নেপাল প্রিমিয়ার লিগের মতো আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ তার অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আসন্ন নেপাল প্রিমিয়ার লিগে কর্ণালি ইয়াকসের জার্সিতে দেখা যাবে আরিফুল ইসলামকে। একই দলের হয়ে বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার আকবর আলিও খেলবেন। ফলে নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে একই দলে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটারের উপস্থিতি থাকছে।

আরিফুলের জন্য এনপিএলে দল পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বাইরে বিদেশের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের মাধ্যমে।

বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের দক্ষতা ভিন্ন পরিবেশে যাচাই করার বড় ক্ষেত্র তৈরি করে। নতুন সতীর্থ, ভিন্ন কন্ডিশন এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা আরিফুলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিদেশি লিগে দল পাওয়ার আগে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের হয়ে টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন আরিফুল। টুর্নামেন্টজুড়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে নজর কেড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

সাত ম্যাচে আরিফুলের ব্যাট থেকে এসেছে ২১৯ রান। তার ব্যাটিং গড় ছিল ৩৬.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৮.৬০। অর্থাৎ রান করার পাশাপাশি দ্রুতগতিতে ব্যাটিং করেও তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

টুর্নামেন্টে দুটি অর্ধশতকও করেছেন আরিফুল। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সবচেয়ে বড় প্রমাণ ছিল রান সংগ্রাহকদের তালিকায় অবস্থান। সাত ম্যাচ শেষে তিনি টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরিফুলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সেই দক্ষতারই প্রতিফলন দেখা গেছে। ১৩৮-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে রান করা তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সক্ষমতাকে তুলে ধরে।

বিশেষ করে ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দ্রুত রান যোগ করার ক্ষমতা একজন টি-টোয়েন্টি ব্যাটারের জন্য বড় সম্পদ। টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টিতে আরিফুলের পারফরম্যান্স তাই শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের নজর কাড়ার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নেপাল প্রিমিয়ার লিগে এবার সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে তার অন্যতম লক্ষ্য। নতুন পরিবেশে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সুযোগ পাওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই দলে খেলে ক্রিকেটাররা নতুন ধরনের কৌশল, পরিকল্পনা ও ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

আরিফুলের ক্ষেত্রেও নেপাল প্রিমিয়ার লিগ সেই সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করার পর এবার তিনি দেশের বাইরে নিজের দক্ষতা তুলে ধরবেন। নেপালের কন্ডিশন, উইকেটের আচরণ এবং প্রতিপক্ষের ধরন তার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে।

এনপিএলে কর্ণালি ইয়াকসের হয়ে খেলার সময় আরিফুলের ওপর থাকবে রান করার দায়িত্ব। পাশাপাশি দলের কৌশল অনুযায়ী বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারবেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এখনো নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পাননি আরিফুল। তাই নেপাল প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক তার ক্যারিয়ারে একটি নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার পর আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সুযোগ পাওয়া একজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো বিষয়। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজের জায়গা তৈরি করাও হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরিফুল যদি এনপিএলে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার পরিচিতি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের দরজাও খুলতে পারে।

বিদেশি লিগে দল পাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনি সেখানে ভালো করার চ্যালেঞ্জও কম নয়। ভিন্ন দেশের মাঠ, নতুন সতীর্থ এবং প্রতিপক্ষের ভিন্ন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে আরিফুলকে।

তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তার আত্মবিশ্বাসের বড় ভিত্তি হতে পারে। টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টিতে ২১৯ রান এবং দুটি অর্ধশতক করে তিনি ইতিমধ্যে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

এখন সেই পারফরম্যান্স নেপাল প্রিমিয়ার লিগেও ধরে রাখার পালা। কর্ণালি ইয়াকসের হয়ে সুযোগ পেলে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর ইনিংস খেলাই হবে তার মূল লক্ষ্য।

তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। কারণ বিদেশি লিগে খেলার মাধ্যমে ক্রিকেটাররা নিজেদের দক্ষতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ