সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeবিশ্ব সংবাদমক্কার কাছে ড্রোন হামলা প্রতিহত, নিরাপত্তা জোরদার সৌদির

মক্কার কাছে ড্রোন হামলা প্রতিহত, নিরাপত্তা জোরদার সৌদির

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি সৌদির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মক্কাকে কখনও লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। বরং সৌদির একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজবাংলা ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেন থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগের মধ্যে মক্কার কাছে একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। এরপর নগরীজুড়ে আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি সৌদির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মক্কাকে কখনও লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। বরং সৌদির একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের দাবি অনুযায়ী, ইয়েমেন থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলার একটি প্রচেষ্টা মক্কার কাছে প্রতিহত করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পবিত্র নগরী মক্কায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কায় তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গেছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনসাধারণকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে জনসমাগম এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মক্কা মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র নগরী। ফলে সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করে। ড্রোন প্রতিহতের দাবির পর সতর্কতা জারি হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সৌদির চারটি এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এলাকাগুলো হলো: আভা খামিস মুশাইত জাজান নাজরান

সৌদি আরবের অভিযোগ, এসব হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহীরা ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। হামলার ফলে কয়েকটি বেসামরিক আর্থিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কিছু তেলক্ষেত্রে আগুন ধরে যাওয়ার দাবিও করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হন। পরবর্তী সময়ে মঙ্গলবারের হামলায় আরও ১৩ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

তবে এসব ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং হুথির পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য এখানে উল্লেখ নেই।

মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারির বিষয়টি সৌদি আরবের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পবিত্র নগরী হওয়ায় এখানে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বার্তায় সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জনসমাগম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে জানিয়েছে, মক্কায় বিপদ কেটে গেছে। অর্থাৎ সতর্কতা জারি থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সৌদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এ ধরনের সতর্কতার মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলতে উৎসাহিত করা।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মক্কার কাছে হুথির ড্রোন হামলার দাবি করা হলেও গোষ্ঠীটি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

হুথি নেতা হাজেম আল-আসাদ অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ বারবার করা হলেও তা সত্য নয়।

হুথির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগকে তারা রাজনৈতিক ও সামরিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে দেখছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত রয়েছে।

তবে হুথির বক্তব্যের বিস্তারিত স্বাধীন যাচাই এখানে পাওয়া যায়নি। ফলে সৌদি আরবের দাবি এবং হুথির পাল্টা বক্তব্য—দুই পক্ষের অবস্থান আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মক্কায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি হুথি গোষ্ঠী পাল্টা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

তবে কখন, কোথায় এবং কীভাবে ওই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও হুথির এই দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক সংঘাতের সময় উভয় পক্ষই নিজেদের সাফল্য তুলে ধরতে বিভিন্ন দাবি করতে পারে। তাই কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্বাধীন সংবাদসূত্র এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরব ও হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়। এই সংঘাতের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়েছে।

হুথি গোষ্ঠী ইয়েমেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সশস্ত্র পক্ষ। সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণাও দিয়েছে হুথি। এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এই সংঘাতের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তেল সরবরাহ, বাণিজ্যিক যোগাযোগ, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এক পোস্টে তিনি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তানের সমর্থনের কথা জানান।

একই সঙ্গে তিনি সংযমের বার্তাও দিয়েছেন। অর্থাৎ নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সৌদির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সমর্থনের বার্তা আসা নতুন নয়।

তবে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।

পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইয়েমেনে ভ্রমণ না করার পরামর্শও দিয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত, সামরিক হামলা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এমন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভ্রমণ সতর্কতার সঠিক তারিখ, ঝুঁকির স্তর এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক নির্দেশনা জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখা প্রয়োজন। ভ্রমণকারীদের জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ড্রোন প্রতিহতের দাবি এবং এরপর সতর্কতা জারির ঘটনায় মক্কার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বিপদ কেটে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, হুথি গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সৌদির যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পাল্টা দাবি করেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ