সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজদেড় কোটি টাকার গাড়ি না কিনে কৃষক পরিবারে অর্থ বিলিয়ে দেন নানা...

দেড় কোটি টাকার গাড়ি না কিনে কৃষক পরিবারে অর্থ বিলিয়ে দেন নানা পটেকর!

গাড়ি কেনার পরিবর্তে সেই অর্থ অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রণবীর জানান, প্রতিটি পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। বন্ধুর মাধ্যমে ওই অর্থ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন অভিনেতা।

নিউজবাংলা, বিনোদন ডেস্ক : বলিউডে নানা পটেকরকে নিয়ে নানা ধরনের গল্প প্রচলিত। অভিনয়ের দক্ষতা, স্পষ্ট কথা বলার ধরন এবং রাগী মেজাজের জন্য তিনি বরাবরই আলোচনায় থাকেন। তবে অভিনেতার ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিকও রয়েছে, যা অনেকের কাছেই অজানা। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং কৃষকদের সাহায্য করার বিষয়েও নানা পটেকরের ভূমিকার কথা সামনে এনেছেন চিত্রনাট্যকার রণবীর পুষ্প।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নানাকে নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণা নিয়ে কথা বলেন রণবীর। তাঁর দাবি, পর্দায় বা বাস্তব জীবনে নানা পটেকরকে যতটা রাগী মানুষ হিসেবে দেখা হয়, তাঁর মানবিক দিকটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে একটি বিশেষ ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। সেই ঘটনা ঘিরেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে অভিনেতার কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর গল্প।

চিত্রনাট্যকার রণবীর পুষ্পের বক্তব্য অনুযায়ী, একবার কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পারেন নানা পটেকর। সেই সময় অভিনেতা প্রায় দেড় কোটি টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কৃষক পরিবারগুলোর আর্থিক সংকটের কথা জানার পর নিজের পরিকল্পনা বদলে ফেলেন নানা। গাড়ি কেনার পরিবর্তে সেই অর্থ অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রণবীর জানান, প্রতিটি পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। বন্ধুর মাধ্যমে ওই অর্থ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন অভিনেতা।

এই ঘটনার কথা তুলে ধরে রণবীর বলেন, মানুষের কষ্ট বুঝতে পারা এবং প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে পিছনে রাখা নানার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাঁর মতে, এই ধরনের কাজই অভিনেতার মানবিক পরিচয় তুলে ধরে।

কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নানা পটেকর ‘নাম’ নামে একটি সংস্থাও তৈরি করেছেন বলে জানান রণবীর পুষ্প। কৃষকদের সহায়তা এবং তাঁদের পরিবারের দুর্দশা লাঘব করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগের কথা বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে।

রণবীরের বক্তব্যে উঠে আসে, কৃষক পরিবারের সমস্যা নিয়ে নানা শুধু কথাই বলেননি, তাঁদের সাহায্যের জন্য কাজও করেছেন। আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিষয়েও তাঁর আগ্রহ রয়েছে বলে দাবি করেন চিত্রনাট্যকার।

তবে সংস্থাটির মাধ্যমে মোট কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বা কত পরিবারকে সাহায্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য নেই। তাই রণবীরের বক্তব্যকে তাঁর সাক্ষাৎকারভিত্তিক দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।

নানা পটেকরের রাগী স্বভাবের কথা বলিউডে নতুন নয়। শুটিং সেটে তাঁর মেজাজ নিয়ে নানা ঘটনা প্রচলিত রয়েছে। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পরিন্দা’ ছবির শুটিংয়ে পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়ার সঙ্গে তাঁর বচসার ঘটনাও আলোচিত।

তবে রণবীর পুষ্পের দাবি, নানার রাগকে শুধু নেতিবাচকভাবে দেখলে অভিনেতার ব্যক্তিত্বের পুরোটা বোঝা যায় না। অনেক সময় অন্যায় বা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দেখলে তিনি প্রতিবাদ করেন। নিজের বক্তব্য বোঝাতে একটি রাস্তার ঘটনার কথা জানান চিত্রনাট্যকার।

রণবীরের বর্ণনা অনুযায়ী, এক দিন রাস্তায় চলন্ত একটি গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের বোতল ছুড়ে ফেলছিলেন। বিষয়টি দেখে নানা পটেকর গাড়ি থামান এবং নিজেই রাস্তায় পড়ে থাকা বোতলটি তুলে নেন।

এরপর ট্রাফিক সিগন্যালে ওই গাড়িটি থামিয়ে চালককে জানলা খুলতে বলেন। সামনে মহাত্মা গান্ধীর ছবি দেওয়া একটি বিজ্ঞাপন এবং স্বচ্ছ ভারত অভিযানের বার্তা দেখতে পান তিনি। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে ওই ব্যক্তিকে দেশের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন নানা।

রণবীরের বক্তব্য অনুযায়ী, নানা প্রশ্ন করেন, দেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব কে নেবে? মহাত্মা গান্ধী নেই, কিন্তু দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব রয়েছে। গাড়িকে ময়লার বাক্স হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন অভিনেতা।

ঘটনাটি তুলে ধরে রণবীর বলেন, এই আচরণকে রাগ বলা যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে নানা যে ওই ব্যক্তিকে সচেতন করেছিলেন, সেটিও অস্বীকার করা যায় না।

নানার মানবিক দিক নিয়ে কী বললেন রণবীর পুষ্প?

নানা পটেকরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে রণবীর পুষ্প অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, নানা সম্পর্কে মানুষের মনে তৈরি হওয়া অনেক ধারণাই পুরোপুরি সঠিক নয়। বিশেষ করে প্রযোজকদের আর্থিক ক্ষতি করেন—এমন অভিযোগেরও জবাব দিতে চেয়েছেন তিনি।

রণবীরের মতে, যে মানুষ কৃষকদের চোখের জল মোছানোর চেষ্টা করেন, তিনি অন্যের ক্ষতি করতে চান—এমন ধারণা সহজে গ্রহণ করা যায় না। তাঁর বক্তব্যে নানার দানশীলতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে কোনও ব্যক্তির মানবিক কাজের প্রশংসা করা এবং তাঁর সম্পর্কে ওঠা সব অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করা এক বিষয় নয়। নানাকে নিয়ে রণবীরের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।

চিত্রনাট্যকার রণবীর পুষ্প ১৯৯৬ সালের ছবি ‘অগ্নিসাক্ষী’-তে নানা পটেকরের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। পার্থ ঘোষ পরিচালিত এই ছবিতে নানার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন মনীষা কৈরালা।

ছবিটি ঘিরে নানা পটেকর ও মনীষা কৈরালার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও একসময় গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন রণবীর। তাঁর বক্তব্য, দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তবে সেটি বন্ধুত্ব, না কি প্রেম, তা নিশ্চিতভাবে বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

রণবীর জানান, শুটিংয়ের আগে নানা ও মনীষা নিজেদের দৃশ্য নিয়ে আলোচনা করতেন। একে অপরকে বুঝতেন এবং পর্দায় তাঁদের অভিনয়ের মধ্যে সেই বোঝাপড়ার ছাপ দেখা যেত বলে মনে করেন তিনি।

নানা পটেকর ও মনীষা কৈরালার বয়সের ব্যবধান ১৯ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর প্রথম ছবি ‘খামোশি: দ্য মিউজ়িক্যাল’-এ তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেন। ওই ছবিতে মনীষা নানার মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

একই বছর ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। পরে ১৯৯৮ সালে পার্থ ঘোষ পরিচালিত ‘যুগপুরুষ’ ছবিতে ফের জুটি বাঁধেন তাঁরা।

দুই অভিনেতার একসঙ্গে কাজের ইতিহাস এবং তাঁদের অভিনয় নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এখনও রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

নানা পটেকরকে নিয়ে রণবীর পুষ্পের বক্তব্যে অভিনেতার দুটি দিক সামনে এসেছে। একদিকে তাঁর রাগী মেজাজ, অন্যদিকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা। কৃষক পরিবারের জন্য দেড় কোটি টাকার গাড়ি না কিনে অর্থ দেওয়ার ঘটনাটি সেই মানবিক দিকেরই একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন চিত্রনাট্যকার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ