সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeবিনোদনগোমাংস বিতর্কে বিশ্বজিৎকে সমর্থন সুরজিতের, বললেন‘আমিও বিফ রোল খেয়েছি’

গোমাংস বিতর্কে বিশ্বজিৎকে সমর্থন সুরজিতের, বললেন‘আমিও বিফ রোল খেয়েছি’

অভিনেতা নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তাঁর শরীর, মন এবং খাবারের জন্য ব্যয় করা অর্থ তাঁর নিজের। তাই কী খাবেন বা কতটা খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও তাঁর নিজের।

আইটি ডেক্স : বাংলাদেশে এসে গোমাংস খাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় নানা ধরনের সমালোচনা ও কটাক্ষ। এমনকি তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছেন অভিনেতা।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিশ্বজিতের সমর্থনে কথা বলার পাশাপাশি নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও মন্তব্য করেছেন। সুরজিৎ জানিয়েছেন, তিনিও জীবনে দুবার বিফ রোল খেয়েছেন।

বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী তাঁর পছন্দের খাবার নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি জানান, বাংলাদেশে এলে পদ্মার ইলিশ খেতে তাঁর ভালো লাগে। বিশেষ করে গরম ভাতের সঙ্গে ইলিশের তেল এবং ইলিশ ভাজা তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, দুপুরের খাবার খাওয়া হয়ে গেছে এবং রাতে গরুর মাংস খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে সাক্ষাৎকারের সেই অংশের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে ঘিরে শুরু হয় নানা ধরনের মন্তব্য। কেউ তাঁর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে খাবারের বিষয়টি মিলিয়ে তাঁকে কটাক্ষ করেন।

বিশেষ করে তিনি ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান এমন প্রসঙ্গ তুলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে আক্রমণ করেন। সমালোচনার মাত্রা একপর্যায়ে এতটাই বেড়ে যায় যে, অভিনেতার গলায় জুতোর মালা পরানো একটি আপত্তিকর ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর প্রচার এবং কটাক্ষের ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কী খাবেন, সেটি অন্য কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারেন না।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে অভিনেতা নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তাঁর শরীর, মন এবং খাবারের জন্য ব্যয় করা অর্থ তাঁর নিজের। তাই কী খাবেন বা কতটা খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও তাঁর নিজের।

বিশ্বজিতের এই বক্তব্যের মধ্যেই মূলত উঠে এসেছে ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন। তাঁর মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করবেন কি না, সেটি অন্যের নির্দেশে ঠিক হওয়ার বিষয় নয়।

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই তাঁর সমর্থনে সোচ্চার হয়েছেন অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিশ্বজিতের বিরুদ্ধে কটাক্ষ ও কুকথা বলা ব্যক্তিদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

সুরজিৎ মনে করেন, একজন প্রবীণ শিল্পীকে তাঁর ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের কারণে অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এ ধরনের মন্তব্য করছেন, তাঁদের শিক্ষাবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, একজন মানুষের ব্যক্তিগত খাবারের পছন্দ নিয়ে সামাজিকভাবে তাঁকে হেয় করা উচিত নয়। বিশেষ করে কোনো শিল্পীকে তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণে অপমান করা হলে সেটি শুধু ওই ব্যক্তিকে নয়, পুরো শিল্পীসমাজকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর সমর্থনে কথা বলতে গিয়ে নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথাও প্রকাশ্যে আনেন সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি জানান, জীবনে দুবার বিফ রোল খেয়েছেন। তবে তাঁর কাছে মাটনের স্বাদ বেশি ভালো লাগায় পরবর্তীতে আর বিফ রোল খাওয়া হয়নি।

তবে ভালো মানের বিফ পেলে ভবিষ্যতে আবারও তা খেতে পারেন বলেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সুরজিৎ। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, খাবারের পছন্দকে তিনি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবেই দেখছেন।

এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্যের কথাও নিজের পোস্টে তুলে ধরেন তিনি। বৈদিক যুগের ঋষি-মুনিদের যজ্ঞ এবং খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সময়ে খাবার নিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কৈফিয়ত চাওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করেন অভিনেতা।

শুধু বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর সমর্থনে কথা বলেই থেমে থাকেননি সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো ঘটনায় টলিউডের অন্য শিল্পীদের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সুরজিতের বক্তব্য, একজন প্রবীণ শিল্পীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান করা হলে অন্য শিল্পীদেরও এ বিষয়ে কথা বলা উচিত। তাঁর মতে, শিল্পীদের একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, যদি বাংলার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদে মুখ না খোলেন, তাহলে তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। তাঁর পোস্টে টলিউডের নীরবতাকে তিনি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক নতুন করে ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সামাজিক সহনশীলতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। একজন মানুষ কী খাবেন, সেটি অনেক সময় তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ, পারিবারিক অভ্যাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

তবে কোনো ব্যক্তির খাবারের পছন্দকে কেন্দ্র করে তাঁকে অপমান করা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা করা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই পার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর ঘটনাতেও মূল বিতর্ক এখন শুধু গোমাংস খাওয়ার বিষয়টি ঘিরে নেই। বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলিং এবং শিল্পীদের পারস্পরিক সমর্থনের প্রশ্ন।

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে সমর্থন করে সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। একদিকে বিশ্বজিতের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সমালোচনা চলছে, অন্যদিকে সুরজিতের বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ