জেলা প্রতিনিধি, ১১ সেপ্টেম্বর এনবি সংবাদ : বরিশাল নগরীতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিলের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামের সামনে থেকে মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মিছিলের একটি ভিডিও।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অভিযান চালায় পুলিশ। মিছিলের স্থান থেকে প্রথমে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিছিলকারীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর মধ্যে ‘হৈ হৈ, রৈ রৈ, বিএনপিরা গেলি কই’—এমন স্লোগানও শোনা যায়।
মিছিলের সময় কয়েকজনের মুখে মাস্ক এবং মাথায় হেলমেট দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীরা সংগঠিতভাবে সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
মিছিলকারীদের মুখে ‘ঘরে ঘরে বলে দে, শেখ হাসিনা আসতেছে’সহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক স্লোগান শোনা যায়। সড়কে দলবদ্ধভাবে অবস্থান করে তারা কিছু সময় মিছিল করেন।
এদিকে মিছিলের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি মিছিলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের অভিযানে ঘটনাস্থল থেকেই পাঁচজনকে আটক করা হয়। এরপর মিছিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অভিযান চালানো হলে আরও দুজনকে আটক করা হয়।
মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানারটিও নজর কেড়েছে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের ছবি দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খানের নির্দেশনায় মিছিলটি আয়োজন করা হয়েছে। তবে মিছিলের সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের সম্পৃক্ততা কী ছিল, তা এখনো যাচাই করছে পুলিশ।
মিছিল শেষ হওয়ার পর এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মিছিলকারীদের দলবদ্ধভাবে সড়কে হাঁটতে এবং নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ভিডিওতে কয়েকজনকে মাস্ক ও হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা গেছে। তবে ভিডিওতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় কিংবা মিছিলে তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়, মিছিলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এবং ঘটনার সময় তাদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কর্মসূচির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।
বরিশাল মহানগরীর কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, মিছিলের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে মিছিলের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রলীগের ব্যানারে এই মিছিলের ঘটনায় বরিশাল নগরীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে প্রকাশ্য মিছিল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে আটক সাতজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ভর করছে পুলিশের তদন্ত ও যাচাইয়ের ওপর। মিছিলের আয়োজক, অংশগ্রহণকারী এবং নির্দেশদাতাদের ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তদন্ত শেষে মিছিলের সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


