সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeলাইফস্টাইলনারীদের এগ ফ্রিজিং কী, বাংলাদেশে কি এই সেবা আছে? ভবিষ্যতে মা হওয়ার...

নারীদের এগ ফ্রিজিং কী, বাংলাদেশে কি এই সেবা আছে? ভবিষ্যতে মা হওয়ার সুযোগ কতটা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পদ্ধতির ব্যবহার বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো এটি তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে কয়েক বছর ধরে দেশের কিছু ফার্টিলিটি সেন্টার ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

নিউজবাংলা ডেস্ক : সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের জীবনেই নির্দিষ্ট একটি বয়স, সময় বা পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীর প্রজননক্ষমতায় স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান সময়ের সঙ্গে কমতে থাকে। ফলে কেউ যদি ভবিষ্যতে সন্তান নিতে চান, কিন্তু এখনই সেই সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত না থাকেন, তাহলে ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা এগ ফ্রিজিং তার জন্য একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে।

এগ ফ্রিজিংয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম ওসাইট ক্রায়োপ্রিজারভেশন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, নারীর ডিম্বাশয় থেকে নিষিক্ত না হওয়া পরিপক্ব ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করাই এগ ফ্রিজিং। পরবর্তী সময়ে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে সেই ডিম্বাণু গলিয়ে শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর ভ্রূণটি জরায়ুতে স্থাপন করে গর্ভধারণের চেষ্টা করা যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পদ্ধতির ব্যবহার বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো এটি তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে কয়েক বছর ধরে দেশের কিছু ফার্টিলিটি সেন্টার ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

কেন নারীরা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন?

এগ ফ্রিজিংয়ের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনাকে কিছুটা ধরে রাখা। একজন নারী বয়স কম থাকতেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখলে পরবর্তী সময়ে সেই তুলনামূলক কম বয়সের ডিম্বাণু ব্যবহার করার সুযোগ থাকে।

কারণ নারী জন্মের সময়ই নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মান। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মজুত কমতে থাকে। শুধু সংখ্যাই নয়, সময়ের সঙ্গে ডিম্বাণুর গুণগত মানও কমে যায়। এর প্রভাব ভবিষ্যতে গর্ভধারণের সম্ভাবনার ওপর পড়তে পারে।

এ কারণে কেউ কেউ ক্যারিয়ার, পড়াশোনা, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কিংবা উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়ার মতো কারণে সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দিলেও আগে ডিম্বাণু সংরক্ষণের কথা ভাবেন। এই ধরনের ডিম্বাণু সংরক্ষণকে সাধারণভাবে সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং বলা হয়।

তবে শুধু ব্যক্তিগত কারণে নয়, চিকিৎসাজনিত কারণেও এগ ফ্রিজিং গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ক্যান্সার চিকিৎসার আগে কেন ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা হয়?

ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এসব চিকিৎসা ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর নারীর প্রজননক্ষমতা আগের মতো নাও থাকতে পারে।

এই কারণে ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করার সুযোগ নেওয়া যেতে পারে। একইভাবে ডিম্বাশয়ে অস্ত্রোপচার বা ভবিষ্যতের প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন চিকিৎসার আগেও এই পদ্ধতি বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশের প্রজননস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বর্তমানে চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনেই এগ ফ্রিজিংয়ের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে যাওয়া কিছু নারী ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন।

বয়স বাড়লে ডিম্বাণুর কী হয়?

নারীর ডিম্বাণুর সংখ্যা জন্মের পর থেকেই ধীরে ধীরে কমতে থাকে। জন্মের সময় ডিম্বাশয়ে যে বিপুলসংখ্যক ডিম্বাণু থাকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে তার সংখ্যা ক্রমশ কমে যায়।

বয়ঃসন্ধিতে ডিম্বাণুর সংখ্যা কয়েক লাখে নেমে আসে। এরপরও প্রতিবছর ডিম্বাণুর মজুত কমতে থাকে। বয়সের সঙ্গে ডিম্বাণুর মানও পরিবর্তিত হয়।

এই কারণেই প্রজনন বিশেষজ্ঞরা অনেক ক্ষেত্রে বয়সকে এগ ফ্রিজিংয়ের সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে কোন বয়সে কতগুলো ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেটি সবার জন্য একই নয়। বয়স, ডিম্বাশয়ের অবস্থা, হরমোনের মাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত দেন।

কীভাবে এগ ফ্রিজিং করা হয়?

এগ ফ্রিজিং শুনতে জটিল মনে হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

প্রথমে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এতে ডিম্বাশয়ের অবস্থা, ডিম্বাণুর মজুত এবং চিকিৎসার জন্য শরীর কতটা উপযুক্ত—এসব সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।

এরপর সাধারণত হরমোনের ওষুধ বা ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য হলো একটি মাসিক চক্রে স্বাভাবিকভাবে যে একটি ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়ার বদলে একাধিক ডিম্বাণুকে পরিপক্ব করে তোলা।

চিকিৎসার সময় নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ড ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে ডিম্বাণুর বৃদ্ধির ওপর নজর রাখা হয়। যখন ডিম্বাণুগুলো সংগ্রহের উপযুক্ত অবস্থায় পৌঁছায়, তখন ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়া করা হয়।

সাধারণত অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশনের মাধ্যমে রোগীকে ঘুমঘুম অবস্থায় রেখে আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে যোনিপথ দিয়ে একটি সরু সূচ ডিম্বাশয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পরিপক্ব ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।

কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্য পদ্ধতিতেও ডিম্বাণু সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে।

ডিম্বাণু কীভাবে বছরের পর বছর সংরক্ষণ করা হয়?

ডিম্বাণু সংগ্রহের পর সেগুলো দ্রুত হিমায়িত করা হয়। বর্তমানে এ কাজে ভিট্রিফিকেশন বা দ্রুত হিমায়িত করার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

এ পদ্ধতিতে ডিম্বাণুকে খুব দ্রুত জমাট অবস্থায় নেওয়া হয়, যাতে বরফের বড় কণা তৈরি হয়ে কোষের ক্ষতি করার সম্ভাবনা কমে।

এরপর ডিম্বাণুগুলো অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়। সাধারণত তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে।

ভবিষ্যতে নারী যখন সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন সংরক্ষিত ডিম্বাণু হিমায়িত অবস্থা থেকে বের করা হয়। যেগুলো সফলভাবে অক্ষত থাকে, সেগুলো শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত করা হয়। এরপর তৈরি হওয়া ভ্রূণ নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে তা জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়।

তবে হিমায়িত ডিম্বাণু থেকে শেষ পর্যন্ত সন্তান জন্ম নেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এগ ফ্রিজিং আর এমব্রিও ফ্রিজিং কি এক?

দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এগ ফ্রিজিংয়ে নিষিক্ত হওয়ার আগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা হয়। পরে ভবিষ্যতে সেই ডিম্বাণু শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত করা হয়।

অন্যদিকে এমব্রিও ফ্রিজিংয়ে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু আগে থেকেই নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর সেই ভ্রূণ হিমায়িত করে রাখা হয়।

অর্থাৎ, এগ ফ্রিজিংয়ে ভবিষ্যতে শুক্রাণু ব্যবহার করে নিষিক্তকরণ করতে হবে। আর এমব্রিও ফ্রিজিংয়ের ক্ষেত্রে ভ্রূণ তৈরির কাজটি আগেই সম্পন্ন হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে কি এগ ফ্রিজিংয়ের সেবা আছে?

হ্যাঁ, বাংলাদেশে বর্তমানে কিছু চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে এগ ফ্রিজিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এটি এখনো ব্যাপকভাবে প্রচলিত কোনো চিকিৎসাসেবা নয়।

দেশে চিকিৎসাজনিত কারণে ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রবণতাই তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করার আগে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনা ধরে রাখতে কিছু নারী এই পদ্ধতি গ্রহণ করছেন।

ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সামাজিক কারণে এগ ফ্রিজিং এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। এর একটি কারণ হলো এই পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানাশোনা তুলনামূলক কম। পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় এবং ভবিষ্যতে সফলতার নিশ্চয়তা না থাকাও অনেকের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিং করতে কত টাকা লাগে?

এগ ফ্রিজিংয়ের খরচ নির্দিষ্ট নয়। কোন হাসপাতাল বা ফার্টিলিটি সেন্টারে চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে, কতগুলো ডিম্বাণু সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে, কী পরিমাণ ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে এবং সংরক্ষণের মেয়াদ কত—এসবের ওপর মোট খরচ নির্ভর করে।

প্রকাশিত বাংলাদেশি চিকিৎসা-তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানে ডিম্বাণু সংগ্রহ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। এরপর ডিম্বাণু ফ্রিজ করার জন্য প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এককালীন খরচ এবং সংরক্ষণ চালিয়ে যেতে বছরে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাগতে পারে।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক সংরক্ষণ ফি আরও বেশি হতে পারে। কোথাও কোথাও তা ৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।

তাই চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুরো খরচের তালিকা জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ শুধু ডিম্বাণু সংগ্রহ ও ফ্রিজ করার খরচই নয়, পরবর্তী সময়ে ডিম্বাণু ব্যবহার করে ভ্রূণ তৈরি, জরায়ুতে ভ্রূণ স্থানান্তর এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য চিকিৎসার জন্য আলাদা খরচ হতে পারে।

ডিম্বাণু ফ্রিজ করলেই কি ভবিষ্যতে সন্তান হবে?

এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। উত্তর হলো—না, এগ ফ্রিজিং ভবিষ্যতে সন্তান হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

সফলতার ওপর বেশ কয়েকটি বিষয় প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে রয়েছে ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় নারীর বয়স, কতগুলো ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা হয়েছে, ডিম্বাণুর গুণগত মান, পরবর্তীতে সেগুলো কতগুলো সফলভাবে গলানোর পর টিকে থাকে এবং নিষিক্তকরণের ফলাফল।

বয়স কম থাকলে সাধারণত ডিম্বাণুর মান তুলনামূলক ভালো থাকার সম্ভাবনা থাকে। তবে শুধু বয়স দিয়ে ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত করা যায় না।

এ কারণেই এগ ফ্রিজিংকে ভবিষ্যতের জন্য একটি সম্ভাবনা ধরে রাখার পদ্ধতি হিসেবে দেখা উচিত, সন্তান নিশ্চিত করার পদ্ধতি হিসেবে নয়।

ডিম্বাণু কতদিন সংরক্ষণ করা যায়?

অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষিত ডিম্বাণু দীর্ঘ সময় রাখা সম্ভব। তবে কত বছর সংরক্ষণ করা যাবে, সেটি দেশ ও সংশ্লিষ্ট আইন বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

দীর্ঘদিন হিমায়িত অবস্থায় থাকার কারণে ডিম্বাণুর কার্যকারিতা কতটা কমে যায়, তা নিয়ে এখনো সব পরিস্থিতির জন্য নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

তবে সংরক্ষণ করা ডিম্বাণুর ভবিষ্যৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন, সম্মতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এগ ফ্রিজিংয়ে কী কী ঝুঁকি রয়েছে?

এগ ফ্রিজিং সাধারণভাবে একটি প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাপদ্ধতি হলেও এতে কিছু ঝুঁকি রয়েছে।

ডিম্বাণু পরিপক্ব করার জন্য হরমোনের ওষুধ দেওয়ার কারণে ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম বা OHSS দেখা দিতে পারে। এতে ডিম্বাশয় অতিরিক্ত ফুলে যেতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে শরীরে তরল জমা, অস্বস্তি কিংবা আরও গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তবে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে গুরুতর OHSS-এর ঝুঁকি কমানোর জন্য চিকিৎসকেরা রোগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

ডিম্বাণু সংগ্রহের সময়ও সামান্য ঝুঁকি থাকে। যেমন সংক্রমণ, রক্তপাত কিংবা আশপাশের কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশনের কারণেও কিছু মানুষের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

এ ছাড়া সবার শরীর হরমোনের ওষুধে একইভাবে সাড়া দেয় না। কখনো প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিম্বাণু পাওয়া যায় না। আবার সংগৃহীত সব ডিম্বাণু সংরক্ষণের উপযোগী নাও হতে পারে।

ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি কেন আরও গুরুত্বপূর্ণ?

ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগ ফ্রিজিংয়ের জন্য কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু কোনো রোগীর যদি দ্রুত কেমোথেরাপি শুরু করা জরুরি হয়, তাহলে ডিম্বাণু সংরক্ষণের জন্য চিকিৎসা বিলম্বিত করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে।

তাই ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর ক্যান্সারের ধরন, চিকিৎসার পরিকল্পনা এবং সময়ের প্রয়োজন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

শেষ কথা

এগ ফ্রিজিং আধুনিক প্রজনন চিকিৎসায় নারীদের জন্য ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ক্যান্সার বা এমন কোনো চিকিৎসার আগে, যা প্রজননক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, ডিম্বাণু সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।

একই সঙ্গে ক্যারিয়ার, পড়াশোনা বা ব্যক্তিগত কারণে সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দিতে চাওয়া নারীরাও এই পদ্ধতি বিবেচনা করছেন।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এগ ফ্রিজিং মানেই ভবিষ্যতে সন্তান নিশ্চিত নয়। এটি মূলত ভবিষ্যতের জন্য একটি সুযোগ সংরক্ষণ করে রাখার চেষ্টা। কতটা সফল হবে, তা বয়স, ডিম্বাণুর সংখ্যা ও মান, পরবর্তী নিষিক্তকরণ এবং ভ্রূণ স্থানান্তরসহ নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশে এই সেবা থাকলেও এটি এখনো তুলনামূলক সীমিত এবং খরচও কম নয়। তাই শুধুমাত্র অনলাইনে তথ্য পড়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে গাইনি বা ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ