সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeইতিহাস ও ঐতিহ্যনাকবা স্বীকৃতির দাবি: ফিলিস্তিনের ইতিহাস মানতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ

নাকবা স্বীকৃতির দাবি: ফিলিস্তিনের ইতিহাস মানতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ

ফিলিস্তিনিদের কাছে নাকবা শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়। এটি হারানো বাড়ি, জমি, পারিবারিক স্মৃতি, পরিচয় এবং নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের সঙ্গে জড়িত। বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শরণার্থী হিসেবে জীবন কাটাচ্ছে।

নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেক্স : ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, বাস্তুচ্যুতি ও দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর নতুন করে চাপ বাড়ছে। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক উচ্ছেদ এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছিল, আরবিতে সেটিই ‘নাকবা’ নামে পরিচিত। ২০২৬ সালে নাকবার ৭৮তম বার্ষিকীতে মানবাধিকারকর্মী, গবেষক ও ফিলিস্তিনপন্থী রাজনীতিকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস যথাযথভাবে স্বীকার না করে মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সংগত নীতি গ্রহণ করা কি আদৌ সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিস্তিন সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার প্রবণতা রয়েছে। একদিকে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে, অন্যদিকে ইসরায়েল সরকারকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ফলে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ ও বাস্তুচ্যুতির ইতিহাস স্বীকার করার বিষয়টি ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরবি শব্দ ‘নাকবা’র অর্থ বিপর্যয় বা মহাবিপর্যয়। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। অনেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে যান, আবার অনেকে সহিংসতার মুখে নিজেদের বসতভিটা হারান। পরবর্তী সময়ে তাদের বড় একটি অংশ পশ্চিম তীর, গাজা এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে বসবাস শুরু করেন।

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ওই সময়ে প্রায় ৪০০টি ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ে। বালাদ আল-শেখ, সাসা, দেইর ইয়াসিন, সালিহা ও লিদ্দার মতো এলাকায় হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।

ফিলিস্তিনিদের কাছে নাকবা শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়। এটি হারানো বাড়ি, জমি, পারিবারিক স্মৃতি, পরিচয় এবং নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের সঙ্গে জড়িত। বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শরণার্থী হিসেবে জীবন কাটাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইতিহাসের স্বীকৃতি ছাড়া ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের মূল কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা কঠিন।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক খালেদ এলগিন্ডির মতে, ফিলিস্তিন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘রাজনৈতিক বিস্মৃতি’। অর্থাৎ, সংকটের ঐতিহাসিক পটভূমি ও ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া।

এলগিন্ডি মনে করেন, কোনো সংঘাতে এক পক্ষের মানবিক কষ্টকে স্বীকৃতি দিয়ে অন্য পক্ষের দুর্ভোগ উপেক্ষা করলে ন্যায়সংগত সমাধানের পথ বাধাগ্রস্ত হয়। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনিদের সম্মিলিত মানসিক আঘাত তাদের জাতীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। একই সময়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং সেখানে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সমালোচনা করেছে। কিছু সংস্থা এসব ব্যবস্থাকে বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা বা অ্যাপার্টহাইড হিসেবে বর্ণনা করেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ওই যুদ্ধের শুরু থেকে অন্তত ৭৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, ইসরায়েলকে দেওয়া সহায়তা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব নাকবার ইতিহাস এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে আবারও একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।

২০২৬ সালের নাকবা স্মরণ দিবসকে সামনে রেখে তাঁর এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি এবং চলমান মানবাধিকার সংকটকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া। ২০২২ সালে প্রথম প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর এটি তাঁর পঞ্চম ধারাবাহিক উদ্যোগ। এবারের প্রস্তাবে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ১২ জন কংগ্রেস সদস্য।

তালিবের বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নিপীড়নের ইতিহাসকে কেবল সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা ঠিক নয়। তাঁর মতে, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের প্রভাব থাকায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। তারপরও এর রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, এ ধরনের উদ্যোগ নাকবার ইতিহাস, শরণার্থীদের অধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা বাড়ায়।

নাকবাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জনমত ও রাজনৈতিক আলোচনায় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন জরিপে ফিলিস্তিনিদের প্রতি জনসমর্থন ও সহানুভূতি বাড়ার পাশাপাশি ইসরায়েল সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, নাকবার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।

ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতেও কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতার সমর্থন বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে মার্কিন সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে ৪০ জন ডেমোক্র্যাট ইসরায়েলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রি বন্ধের পক্ষে ভোট দেন। প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস না হলেও সমর্থকেরা ভোটের সংখ্যাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখেছেন।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারত্ব বজায় রাখতে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি নিয়ে এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলের কথিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অস্পষ্ট নীতি নিয়েও কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন। এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয়, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রচলিত অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

২০২৩ সালে নাকবার ৭৫তম বার্ষিকীতে জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি স্মরণ করে। তবে নাকবাকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ আরও ৩০টি দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র ওই স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। সে সময় দেশটির পক্ষ থেকে জাতিসংঘের কার্যক্রমে ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাত নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়।

একই বছর মার্কিন কংগ্রেস ভবনেও নাকবা স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন রাশিদা তালিব। তবে রিপাবলিকান নেতারা অনুষ্ঠানটি বাতিলের চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েলপন্থী সংগঠন অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগের চাপও এ বিতর্কে ভূমিকা রাখে।

এসব ঘটনা দেখায়, নাকবার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা শুধু অতীতের ঘটনা স্মরণ করার বিষয় নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যনীতি এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে চলমান মতবিরোধের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সব সময় একই রকম ছিল না। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের গবেষক এলগিন্ডির মতে, ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ইহুদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন। যদিও তাঁর প্রশাসনই প্রথম ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।

ট্রুম্যান প্রশাসন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৯৪ নম্বর প্রস্তাবকেও সমর্থন করেছিল। এই প্রস্তাবের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়া এবং ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন যুক্ত ছিল। বর্তমানে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কূটনৈতিক দপ্তরের নথিতেও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ, সম্পত্তি লুট এবং তাদের বাড়িঘর হারানোর ঘটনার বিবরণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের পরিচালক জশ রুবনার।

তাঁর মতে, সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো সহিংসতা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং বাস্তুচ্যুতির ঘটনা সম্পর্কে জানতেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কূটনৈতিক দপ্তরের নথিতেও এসব ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। তবে সে সময় এসব ঘটনাকে ‘নাকবা’, জাতিগত নিধন কিংবা গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পরিভাষার ব্যবহার বর্তমানের তুলনায় সীমিত ছিল।

১৯৬০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। শীতল যুদ্ধের কৌশলগতহিসাব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক সহযোগিতা এই সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।

প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সময় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের প্রশ্নটি আবার আলোচনায় আসে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে অসলো চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেওশরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক হয়।

২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও নাকবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ২০১৮ সালে ইসরায়েল যখন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর উদ্‌যাপন করবে, তখন ফিলিস্তিনিরা নাকবা বা মহাবিপর্যয়ের ৭০ বছর স্মরণ করবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় নাকবার প্রসঙ্গ কমে আসে। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন আরও জোরালো হয়।

এলগিন্ডির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিসরে নাকবার ইতিহাস কার্যত উপেক্ষিত হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে, মাত্র এক প্রজন্মের মধ্যেই অতীতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা মার্কিন রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব হারায়।

আরব সেন্টার ওয়াশিংটন ডিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক ইউসুফ মুনায়্যারের মতে, নাকবার স্বীকৃতি শুধু অতীতের ইতিহাসকে সম্মান জানানোর বিষয় নয়। এটি বর্তমান সংকট মোকাবিলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের যুক্তি হলো, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি, শরণার্থী সমস্যা এবং নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের প্রশ্ন বিবেচনায় না নিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান তৈরি করা কঠিন। ইতিহাসের এই অধ্যায় উপেক্ষা করলে পুরোনো অন্যায় ও বৈষম্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার আশঙ্কা থাকে।

জশ রুবনারের মতে, নাকবার ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং এর প্রতিকারযোগ্য দিকগুলো নীতিনির্ধারণে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যথায় সমস্যার মূল কারণ না বুঝেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

মুনায়্যারের মতে, নাকবাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ৮০ বছর অপেক্ষা করা উচিত নয়। একইভাবে গাজায় সংঘটিত সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয়ের স্বীকৃতি দিতেও আরও কয়েক দশক অপেক্ষা করা উচিত হবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ