সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeবিশ্ব সংবাদপাকিস্তানে ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট, সহায়তা লাগবে ১ কোটি ৬ লাখ মানুষের

পাকিস্তানে ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট, সহায়তা লাগবে ১ কোটি ৬ লাখ মানুষের

পাকিস্তানে ক্ষুধা সংকটের অন্যতম গুরুতর প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির প্রায় ১৮ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। অন্যদিকে, প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুর বয়সের তুলনায় শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে।

নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেক্স : পাকিস্তানে ক্ষুধা ও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষুধা সংকটে থাকা শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটির লাখো মানুষ পর্যাপ্ত খাবার সংগ্রহ করতে পারছেন না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৬ সালে পাকিস্তানের প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গারের তথ্য উদ্ধৃত করে এ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যসংকটের পাশাপাশি অপুষ্টি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এসব অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। পাশাপাশি বাজারে যাতায়াত, জীবিকা নির্বাহ এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পাকিস্তানের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রায় ৭৯ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অর্থাৎ, বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারছেন না কিংবা পুষ্টিকর খাবার কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য রাখছেন না।

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা বলতে শুধু খাবারের অভাব বোঝায় না। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত খাবার কেনার অর্থ না থাকা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে না পারা এবং অনিশ্চিত সরবরাহের কারণে নিয়মিত খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা হারানো।
দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকলে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা কমে যায়। শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গিয়ে বিভিন্ন অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দরিদ্র পরিবারগুলোর খাদ্য সংগ্রহের সক্ষমতা নিয়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও অনেক পরিবারের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে খাবারের পেছনে ব্যয় বাড়াতে গিয়ে তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে খরচ কমাতে হচ্ছে।

পাকিস্তানে ক্ষুধা সংকটের অন্যতম গুরুতর প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির প্রায় ১৮ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। অন্যদিকে, প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুর বয়সের তুলনায় শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে।

শিশুদের অপুষ্টি শুধু তাদের বর্তমান স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে না। দীর্ঘমেয়াদে এটি শারীরিক বৃদ্ধি, শেখার ক্ষমতা এবং সামগ্রিক বিকাশেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে জীবনের প্রথম কয়েক বছরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে তার প্রভাব পরবর্তী জীবনেও থেকে যেতে পারে।

শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং পর্যাপ্ত ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। কিন্তু খাদ্যপণ্যের দাম বেশি হলে দরিদ্র পরিবারগুলো অনেক সময় কম খরচের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়। এতে খাবারের পরিমাণ কোনোভাবে নিশ্চিত করা গেলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থেকে যেতে পারে।

এ অবস্থায় শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টিসেবা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে আর্থিক ও খাদ্যসহায়তা দেওয়াও প্রয়োজন।
পাকিস্তানের খাদ্যসংকটের পেছনে একাধিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ কাজ করছে। দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং কৃষি খাতের অনিশ্চয়তা মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে।

দারিদ্র্য খাদ্যসংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর বড় একটি অংশকে দৈনন্দিন খাবার, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসার খরচের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। আয় সীমিত হওয়ায় এসব পরিবারের পক্ষে পুষ্টিকর খাবার কেনা কঠিন হয়ে পড়ে।

কোনো পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কাজ হারালে কিংবা আয় কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তখন পরিবারের সদস্যদের খাবারের পরিমাণ কমানো বা প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় স্থগিত রাখার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। কারণ, তাদের আয়ের একটি বড় অংশ খাবার কেনার পেছনে ব্যয় হয়। চাল, গম, ডাল, তেল, শাকসবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে পরিবারের খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনতে হয়।

অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো তুলনামূলক দামি কিন্তু পুষ্টিকর খাবার কেনা কমিয়ে দেয়। এর ফলে খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ে।

পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে মানুষের নিয়মিত আয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো কাজের অভাব, মজুরি কমে যাওয়া কিংবা মৌসুমি কর্মসংস্থানের কারণে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়ে।
এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি যুক্ত হলে খাদ্য কেনার সামর্থ্য আরও কমে যায়। ফলে বাজারে খাবার পাওয়া গেলেও অনেক পরিবার প্রয়োজন অনুযায়ী তা কিনতে পারে না।

কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ, বাজারদর এবং কৃষকের আয় একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষকের লাভ কমে যেতে পারে। আবার অনুকূল দাম না পেলে কৃষক পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদে বিনিয়োগ করতে সমস্যায় পড়েন।

অন্যদিকে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা মানুষের আয়, বাজারদর এবং কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এসব বিষয় একসঙ্গে কাজ করলে খাদ্যসংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

খাদ্য ও অর্থের সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো বিভিন্ন ধরনের বিকল্প কৌশল গ্রহণ করছে। তবে এসব ব্যবস্থা সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে।

প্রথমত, অনেক পরিবার খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ দিনে একাধিকবার খাবার খাওয়ার পরিবর্তে কমবার খাচ্ছে। আবার কোনো কোনো পরিবার তুলনামূলক কম দামি খাবারের ওপর নির্ভর করছে, যার ফলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, সংসারের খরচ মেটাতে কিছু পরিবার তাদের উৎপাদনশীল সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। কৃষকের ক্ষেত্রে গবাদিপশু বা কৃষিকাজে ব্যবহৃত সম্পদ বিক্রি করা ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, এসব সম্পদই পরবর্তী সময়ে জীবিকা নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
তৃতীয়ত, আর্থিক চাপ কমাতে কিছু পরিবার সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের খরচ কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের সাধারণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, খাদ্যসংকট মোকাবিলায় পরিবারগুলো যখন এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়, তখন তা শুধু বর্তমান দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে না; বরং ভবিষ্যতে দারিদ্র্য আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকিও নির্দেশ করে।

পাকিস্তানে ক্ষুধা সংকটের অন্যতম বড় চালক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, হিমবাহ গলনের কারণে সৃষ্ট হ্রদ থেকে আকস্মিক বন্যা এবং অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টিপাত কৃষি ও গ্রামীণ জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
কৃষি উৎপাদন আবহাওয়ার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টি হলে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে না। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ফসলের মাঠ, সড়ক, সেতু এবং সেচব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে এবং বাজারে খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়।

বন্যার কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ফসলের ক্ষতি হয় না; অনেক ক্ষেত্রে কৃষকের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু এবং কৃষিকাজের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো একই সঙ্গে খাদ্য ও আয়ের সংকটে পড়ে।

অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টিপাতও কৃষি উৎপাদনের পরিকল্পনা কঠিন করে তুলছে। সময়মতো বৃষ্টি না হলে বীজ বপন, সেচ এবং ফসল সংগ্রহের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ শ্রমিকদের কাজের সুযোগও হ্রাস পেতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কয়েকটি অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ আয়ের বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পানির অভাবে ফসলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে পশুখাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিলে গবাদিপশু পালন করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ, ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষতি হলে তাদের আয় কমে যায়। তখন নিজেদের উৎপাদিত খাবারের পাশাপাশি বাজার থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য কেনার সামর্থ্যও কমে যায়।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে স্থানীয় নিরাপত্তাহীনতা খাদ্যসংকট মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলছে। এসব অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা মানুষের জীবিকা, বাজারে যাতায়াত এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।

নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দিলে কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না। পরিবহন ব্যাহত হলে খাদ্যপণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর খরচও বাড়তে পারে। এর প্রভাব স্থানীয় বাজারের সরবরাহ ও পণ্যের দামে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

একই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও পুষ্টিসেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন এমন পরিবারগুলো সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
পাকিস্তানে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় জরুরি খাদ্যসহায়তা, পুষ্টিসেবা, নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়ার পাশাপাশি অর্থায়ন কমে গেলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

জরুরি সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে খাবার সংগ্রহে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় শুধু ত্রাণ বিতরণ যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল কৃষিপদ্ধতি, পানি সংরক্ষণ, আগাম দুর্যোগ সতর্কতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং শিশুদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পাকিস্তানের ক্ষুধা সংকট একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক দুরবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি উৎপাদনের অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি জড়িত। তাই এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

২০২৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে এমন পূর্বাভাস দেশটির পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে এই সংখ্যা একটি প্রাক্কলন; বাস্তবে সহায়তার প্রয়োজন পরিস্থিতি, খাদ্যের দাম, আবহাওয়া এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করতে পারে।

তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে খাদ্য ও পুষ্টিসেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মানুষের আয় বাড়ানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, কৃষকদের সহায়তা এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ