খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeঅর্থ-বানিজ্যকলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সুখবর! ন্যায্য মূল্যে কেনাকাটার আশ্বাস ব্যবসায়ীদের

কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সুখবর! ন্যায্য মূল্যে কেনাকাটার আশ্বাস ব্যবসায়ীদের

ব্যবসায়ীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হঠাৎ করে পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং তারা বিশ্বাস করেন, পর্যটকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ভারতের পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণার পর নতুন আশায় বুক বাঁধছেন কলকাতার ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তারা পর্যটকদের আস্থা অর্জনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য ন্যায্য মূল্যে পণ্য ও সেবা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা বাংলাদেশের পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। চিকিৎসা, কেনাকাটা, অবকাশ কিংবা পারিবারিক ভ্রমণ—বিভিন্ন কারণে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কলকাতায় যেতেন। তবে গত দুই বছরে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শহরের অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়েন।

বিশেষ করে মারকুইস স্ট্রিট, সুদ্দার স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, রাফি আহমেদ কিদওয়াই রোড এবং কলিন স্ট্রিটের হোটেল, রেস্টুরেন্ট, খুচরা দোকান ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে পর্যটক কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে এসব এলাকায়।

সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর থেকেই কলকাতার ব্যবসায়ী মহলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

তাদের প্রত্যাশা, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন আবারও বাড়বে। এতে শুধু ব্যবসা নয়, দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগও আরও জোরদার হবে।

ব্যবসায়ীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হঠাৎ করে পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং তারা বিশ্বাস করেন, পর্যটকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

তাদের মতে, একজন সন্তুষ্ট পর্যটক শুধু নিজেই আবার ফিরে আসেন না, বরং অন্যদের কাছেও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার প্রসার ঘটে।

বাংলাদেশি পর্যটকদের আরও ভালো সেবা দিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি একটি বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছ মূল্যনীতি এবং আন্তরিক আচরণের মাধ্যমে বাংলাদেশি পর্যটকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশি পর্যটকদের সামনে ভ্রমণের আরও অনেক বিকল্প রয়েছে। তাই তাদের ধরে রাখতে হলে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী সংগঠনের মহাসচিব হায়দার আলি খান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বেশি লাভ করার চেয়ে সুদীর্ঘ সময়ের জন্য ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, আস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কই ভবিষ্যতের ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে কলকাতা হোটেল, গেস্ট হাউজ এবং রেস্টুরেন্ট মালিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আফাক শামীম বলেন, কলকাতা সবসময় বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানায়। আগের মতো এবারও তারা তাদের অর্থের যথাযথ মূল্য পাবেন। তাদের লক্ষ্য শুধু সাময়িক ব্যবসা নয়, বরং এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা, যা দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশি পর্যটকদের কলকাতা সফর বাড়লে শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন না; বরং পর্যটন, হোটেল, পরিবহন, রেস্টুরেন্ট এবং খুচরা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ব্যবসায়ীদের এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে দুই দেশের পর্যটন খাতেও নতুন গতি আসতে পারে।

পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণার পর কলকাতার ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। অতীতের ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে তারা বাংলাদেশি পর্যটকদের আস্থা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশল বেছে নিয়েছেন। ন্যায্য মূল্যে পণ্য ও সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে কলকাতা আবারও অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া