খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালইংল্যান্ডের সামনে ৪০ বছরের পুরনো দুঃস্বপ্ন! মারাদোনার মাঠে এবার মেক্সিকোর চ্যালেঞ্জ

ইংল্যান্ডের সামনে ৪০ বছরের পুরনো দুঃস্বপ্ন! মারাদোনার মাঠে এবার মেক্সিকোর চ্যালেঞ্জ

দলের নিরাপদ বিশ্রাম নিশ্চিত করাই এখন আয়োজকদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু স্টেডিয়াম রয়েছে, যেখানে পা রাখলেই ফিরে আসে অতীতের তিক্ত স্মৃতি। ইংল্যান্ডের জন্য মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা ঠিক তেমনই একটি নাম। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে এই মাঠেই দিয়েগো মারাদোনার অসাধারণ নৈপুণ্যে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংল্যান্ডের। চার দশক পেরিয়ে গেলেও সেই স্মৃতি এখনও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে।

এবার আবার সেই আজটেকা স্টেডিয়ামেই গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচ খেলতে নামছে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো। তবে এবার শুধু মাঠের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের নানা চ্যালেঞ্জও চিন্তায় ফেলেছে হ্যারি কেনদের।

১৯৮৬ সালের ২২ জুন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সেই ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। দিয়েগো মারাদোনা প্রথমে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করেন। এরপর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ছয়জন ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে করেন শতাব্দীর অন্যতম সেরা গোল।

সেই ম্যাচ শুধু ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রাই শেষ করেনি, বরং আজটেকা স্টেডিয়ামকে তাদের কাছে এক দুঃস্বপ্নের প্রতীক বানিয়ে দিয়েছে।

আসন্ন নকআউট ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো স্বাগতিক সমর্থকদের আচরণ। নিজেদের মাঠের পূর্ণ সুবিধা নিতে মরিয়া মেক্সিকান সমর্থকরা ইতোমধ্যেই ভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছেন।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ দলের হোটেলের সামনে সারারাত গাড়ির হর্ন বাজানো, আতশবাজি ফোটানো এবং উচ্চ শব্দ করে খেলোয়াড়দের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

ইংল্যান্ড দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোটেলের চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো সমর্থক রাতের বেলায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

দলের নিরাপদ বিশ্রাম নিশ্চিত করাই এখন আয়োজকদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজটেকা স্টেডিয়ামের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে অনেক বিদেশি খেলোয়াড়েরই সমস্যা হয়।

উচ্চতাজনিত কারণে খেলোয়াড়দের দ্রুত ক্লান্তি, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল আগেভাগেই দলকে মেক্সিকোতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল মনে করেন, অতিরিক্ত আগে গেলে যেমন সমস্যা হতে পারে, তেমনি একেবারে ম্যাচের আগে পৌঁছানোও ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, দলের চিকিৎসক, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে, তবে অতিরিক্ত দীর্ঘ সময় সেখানে থাকাও এড়ানো হবে।

টুখেলের মতে, আজটেকা স্টেডিয়ামে বলের বাউন্সও ইউরোপের মাঠের তুলনায় আলাদা। তাই ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত অনুশীলন করে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মেক্সিকো এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত রক্ষণভাগের পরিচয় দিয়েছে। তারা এখনও কোনো গোল হজম করেনি। শক্তিশালী ডিফেন্স এবং সংগঠিত দলীয় পারফরম্যান্স তাদের অন্যতম বড় শক্তি।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড নিজেদের আগের ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রত্যাশিত ছন্দে খেলতে পারেনি। আক্রমণভাগে ধার কম ছিল, মাঝমাঠেও ছিল সমন্বয়ের অভাব।

ফলে মেক্সিকোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইংল্যান্ডকে অনেক বেশি উন্নত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে অভিজ্ঞ হ্যারি কেন এবং তরুণ তারকা জুড বেলিংহ্যামের ওপরই থাকবে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব।

কেনকে গোলের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নেতৃত্বও দিতে হবে। অন্যদিকে বেলিংহ্যামকে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

মেক্সিকোর সমর্থকদের তীব্র চাপ, উচ্চতার প্রভাব এবং শক্তিশালী রক্ষণ—সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের তারকাদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে অন্যতম কঠিন পরীক্ষা।

আজটেকা স্টেডিয়ামের নাম শুনলেই ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি সামনে চলে আসে। মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং অবিশ্বাস্য একক নৈপুণ্যের গোল এখনও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

তবে বর্তমান ইংল্যান্ড দল অতীতের সেই ব্যর্থতার বোঝা ঝেড়ে নতুন ইতিহাস লিখতে চায়। কোচ টমাস টুখেলও বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা, মানসিক দৃঢ়তা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি থাকলে আজটেকার অভিশাপ কাটানো সম্ভব।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের সাফল্য নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, উচ্চতার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া, মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ভাঙার কৌশল এবং মানসিক দৃঢ়তা—সবকিছুই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে স্বাগতিক মেক্সিকো নিজেদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে শক্তিতে পরিণত করে আরেকটি বড় জয় তুলে নিতে চাইবে।

চার দশক আগে আজটেকা স্টেডিয়ামে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, এবার তার নতুন পর্বের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। একদিকে অতীতের তিক্ত স্মৃতি, অন্যদিকে বর্তমানের কঠিন বাস্তবতা—দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম ও টমাস টুখেলের দল কি অবশেষে আজটেকার অভিশাপ কাটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে পারবে, নাকি স্বাগতিক মেক্সিকো নিজেদের মাঠে আবারও ইংরেজদের হতাশ করবে—তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।