নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেক্স : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ই জিন ক্যারলকে দেওয়া ৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ নিয়ে চলমান আইনি লড়াই আর চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৩ সালের দেওয়ানি মামলায় যৌন নিপীড়ন ও মানহানির অভিযোগসংক্রান্ত রায়ে ক্যারলের পক্ষে এই অর্থ নির্ধারণ করেছিল নিউইয়র্কের একটি জুরি।
তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে ক্যারলের হাতে অর্থ পৌঁছানোর বিষয়টি নতুন করে পরিবর্তিত হয়নি। কারণ আদালতের নিয়ন্ত্রণে থাকা অর্থ এরই মধ্যে ক্যারলকে দেওয়া হয়েছে। মূলত ট্রাম্পের আপিল প্রত্যাহারের মাধ্যমে ৫ মিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ নিয়ে দীর্ঘ আইনি বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো।
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিল জানায়, ট্রাম্প ও ক্যারলের পক্ষ আদালতের কাছে আপিলটি খারিজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প তার আপিল চলাকালে অর্থ ছাড় স্থগিত রাখার আবেদনও প্রত্যাহার করেছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, পক্ষগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে আপিলটি ‘with prejudice’ খারিজ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, একই বিষয়ে ওই আপিলটি আবার একইভাবে সামনে আনার সুযোগ আর থাকছে না।
এই পদক্ষেপটি মূলত একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই মামলার আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় সার্কিটে অর্থ ছাড় নিয়ে চলমান লড়াইটিও কার্যত আর এগোনোর অবস্থায় ছিল না।
২০২৩ সালে ই জিন ক্যারলের করা দেওয়ানি মামলায় নিউইয়র্কের একটি জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন এবং পরে মানহানির জন্য দায়ী করে। জুরি ক্যারলের পক্ষে মোট ৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে।
ট্রাম্প অবশ্য অভিযোগ ও দায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন এবং মামলাটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে আপিল করেছেন।
রায়ের পর অর্থটি সরাসরি ক্যারলের হাতে না দিয়ে আদালত-নিয়ন্ত্রিত একটি হিসাবে রাখা হয়েছিল। আপিলের প্রক্রিয়া চলার সময় অর্থ নিরাপদ রাখার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সুদ যোগ হওয়ায় অর্থের পরিমাণ ৫ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেড়ে যায়।
এই মামলায় ট্রাম্পের আইনি লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ২০২৬ সালের ২৯ জুন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর পর মামলাটির অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আবার সামনে আসে। ম্যানহাটনের ফেডারেল বিচারক লুইস এ কাপলান ৮ জুলাই আদালতের নিয়ন্ত্রণে থাকা অর্থ ক্যারলকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্প ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও দ্রুত আপিল করেন এবং অর্থ ছাড় সাময়িকভাবে আটকে রাখার আবেদন জানান। কিন্তু দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এরপর ৯ জুলাই আদালত-নিয়ন্ত্রিত হিসাব থেকে অর্থ ছাড় করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সুদসহ অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন ডলার।
অর্থ ছাড়ের পরও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ার কিছু অংশ চলছিল। কিন্তু ২৯ সেপ্টেম্বরের পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই লড়াইও শেষ করার পথ তৈরি হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প এখন যে আপিলটি প্রত্যাহার করেছেন, সেটি মূলত ৫ মিলিয়ন ডলারের রায়ের অর্থ ছাড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ ক্যারলের হাতে ইতিমধ্যে পৌঁছে যাওয়া অর্থ ফেরত নেওয়ার কোনো নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
বরং আদালতে চলমান আপিল ও স্থগিতাদেশের আবেদন প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে অর্থ নিয়ে আইনি বিরোধের এই ধাপ শেষ হয়েছে।
ই জিন ক্যারল ও ট্রাম্পের আইনি বিরোধ এখানেই পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। কারণ ক্যারলের সঙ্গে ট্রাম্পের আরেকটি আলাদা দেওয়ানি মামলায় ২০২৪ সালে আরও বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের জানুয়ারির বিচারে ক্যারলকে মানহানি করার জন্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে আরেকটি জুরি। এই মামলাটি ২০২৩ সালের ৫ মিলিয়ন ডলারের রায়ের থেকে আলাদা।
ওই বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নিয়েও ট্রাম্পের আইনি লড়াই চলছে। ২০২৬ সালের মে মাসে দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট ওই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার অনুমতি দিয়েছিল, যতক্ষণ না সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করে বা আপিল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
ফলে ৫ মিলিয়ন ডলারের মামলার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ক্যারলের সঙ্গে ট্রাম্পের সব আইনি বিরোধের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো ২০২৩ সালের মামলার ৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ নিয়ে ট্রাম্পের চলমান আপিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়া।
প্রথমে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অর্থ আদালতে জমা রাখা হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানালে সেই অর্থ ক্যারলকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ট্রাম্প আবারও অর্থ ছাড় বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফেডারেল বিচারক এবং পরে আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের পর অর্থটি ছাড় করা হয়।
এখন দ্বিতীয় সার্কিটের আপিল প্রত্যাহারের মাধ্যমে এই নির্দিষ্ট অর্থ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার আরেকটি ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।


