স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ বাংলা ডেস্ক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঙ্গীকার, প্রত্যাশা ও জাতীয় স্বার্থ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে দেওয়া ওই ভাষণটি ছিল তাঁর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে প্রথম বক্তব্য।
বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমান সম্পূর্ণ বাংলায় ভাষণ দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার উঠে আসে। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোট ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ, উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন সভা এবং একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন। পাশাপাশি ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ ধরনের বৈঠকে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ, উন্নয়ন এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সরকারি তথ্য থেকে জানা যায়।
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের ২৬ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিং অনুযায়ী, তিনি মালদ্বীপ, ভুটান, হাইতি, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনায় জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জন্য বহুপক্ষীয় কূটনীতির সুযোগ তৈরি হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে এসব আলোচনা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করে।
তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা পূর্ণ হয়।
১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এরপর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর একই মঞ্চে বক্তব্য দেন তাঁদের সন্তান তারেক রহমান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে একই পরিবারের বাবা, মা ও সন্তানের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার বিরল নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা বিশ্বপরিসরে তুলে ধরা হয়েছে।
একই সঙ্গে এই অংশগ্রহণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও নীতিনির্ধারকদের এক জায়গায় নিয়ে আসে। ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়।
মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের কার্যক্রম এবং একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটিকে বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীসহ অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু সাধারণ পরিষদের মূল বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চার দিনের সফরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থ ও প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়েছে



