নিউজবাংলা, আন্তর্জাতিক ডেক্স : বয়স ৮৩ বছর। অথচ এখনও নিয়মিত শরীরচর্চা করে নিজেকে সক্রিয় রাখছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। নতুন নতুন কঠিন ব্যায়ামের পেছনে না ছুটে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে প্রায় একই ধরনের শারীরিক অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর এই দীর্ঘদিনের ফিটনেস রুটিন নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন ফিটনেস প্রশিক্ষক শিবোহাম।
অমিতাভের শরীরচর্চার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন শিবোহামের স্ত্রী বৃন্দা গ্রোভারও। তাঁর তত্ত্বাবধানে অভিনেতার ব্যায়ামের রুটিনে সময়ের সঙ্গে কিছু পরিবর্তন এলেও মূল কাঠামো প্রায় একই রয়েছে। বয়স ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অনুশীলন যোগ বা বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিনিয়ত নতুন ব্যায়াম শুরু করার বদলে পরিচিত এবং নিয়ন্ত্রিত একটি রুটিনের মধ্যেই থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শিবোহামের বক্তব্য অনুযায়ী, অমিতাভ বচ্চনের দীর্ঘদিনের শরীরচর্চার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। শুরুতে ওয়ার্ম-আপের মাধ্যমে শরীরকে প্রস্তুত করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট ক্রম মেনে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেন তিনি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনও বদলায়। তাই অমিতাভের ক্ষেত্রেও রুটিনে প্রয়োজনীয় কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে পায়ের শক্তি ধরে রাখার জন্য কিছু ব্যায়াম যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ ২৬ বছর আগের রুটিন হুবহু অনুসরণ না করলেও এর মূল কাঠামো ধরে রেখেছেন তিনি।
এই পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ধারাবাহিকতা। নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করলে শরীর যেমন সেই অনুশীলনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, তেমনই নিজের মধ্যেও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস তৈরি হয়।
বয়স বাড়লে ব্যায়ামের ধরন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। অমিতাভের ফিটনেস রুটিনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বয়সের সঙ্গে শরীরের সক্ষমতা, পুরোনো চোট বা অন্য কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলে ব্যায়ামের মাত্রা সেই অনুযায়ী ঠিক করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ হলো, হঠাৎ করে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে বা কঠিন ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে শরীরকে প্রস্তুত করা। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়ামের তীব্রতা ও ওজন কমানো-বাড়ানো যেতে পারে।
অমিতাভের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পরিচিত রুটিন বজায় রাখার পাশাপাশি বয়সের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে শরীরের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ না দিয়েও নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যেকোনো শারীরিক অনুশীলনের আগে ওয়ার্ম-আপ গুরুত্বপূর্ণ। অমিতাভের রুটিনেও এর জায়গা রয়েছে। ওয়ার্ম-আপের মাধ্যমে শরীরকে মূল ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এতে পেশি ও অস্থিসন্ধিগুলো নড়াচড়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে জড়তা দেখা দিতে পারে। ফলে ব্যায়ামের আগে উপযুক্তভাবে শরীর প্রস্তুত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে অমিতাভের ফিটনেস রুটিনেও এই প্রস্তুতিপর্ব নিয়মিত রয়েছে।
এরপর নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্র ব্যবহার করে শক্তিবর্ধক অনুশীলন করেন তিনি। তবে কতটা ওজন বা কতটা তীব্রতায় ব্যায়াম করা হবে, সেটি ব্যক্তির বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
শুধু যন্ত্রনির্ভর ব্যায়াম নয়, অমিতাভ বচ্চনের রুটিনে যোগাসন ও প্রাণায়ামও রয়েছে। প্রশিক্ষণের আগে বা পরে তিনি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট প্রাণায়াম করেন বলে জানিয়েছেন তাঁর প্রশিক্ষক।
যোগাসনও তাঁর নিয়মিত অনুশীলনের অংশ। শরীরচর্চার পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের নমনীয়তা ধরে রাখার জন্য যোগভিত্তিক অনুশীলন অনেকের রুটিনেই দেখা যায়।
অমিতাভের দীর্ঘদিনের ফিটনেস পরিকল্পনায় শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, ওয়ার্ম-আপ, যোগাসন এবং প্রাণায়ামের মতো বিভিন্ন উপাদান একসঙ্গে রয়েছে। তবে এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সবকিছুর মধ্যেই নিয়মিত থাকার অভ্যাস।
বর্তমানে ফিটনেস নিয়ে নানা ধরনের নতুন পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন নতুন ব্যায়াম, ওয়ার্কআউট পদ্ধতি বা কঠিন শরীরচর্চার ভিডিও দেখা যায়। কিন্তু অমিতাভের দীর্ঘদিনের রুটিন দেখায়, ফিট থাকার ক্ষেত্রে সবসময় নতুন কিছু করার প্রয়োজন নেই।
একটি রুটিন শরীরের জন্য উপযুক্ত হলে সেটি দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অবশ্যই বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী রুটিনে পরিবর্তন আনা দরকার। কিন্তু প্রতিবার নতুন ও কঠিন ব্যায়াম যোগ করাই ফিটনেসের একমাত্র পথ নয়।
অমিতাভের ক্ষেত্রে ২৬ বছর ধরে একই ধরনের কাঠামো অনুসরণ করার বিষয়টি সেই ধারাবাহিকতারই উদাহরণ। সময়ের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু মূল অভ্যাসটি ধরে রাখা হয়েছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির শক্তি ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কাজগুলো করার সক্ষমতার সঙ্গেও শারীরিক শক্তির সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে অমিতাভের রুটিনে শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের জায়গা রয়েছে।
বিশেষ করে পায়ের শক্তি বাড়ানোর জন্য কিছু অনুশীলন যুক্ত করা হয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশের সক্ষমতার পরিবর্তন বিবেচনা করেই এমন সংযোজন করা হয়েছে বলে প্রশিক্ষকের বক্তব্য থেকে জানা যায়।
তবে একই ব্যায়াম সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। একজনের জন্য যে অনুশীলন স্বাভাবিক, অন্যের ক্ষেত্রে সেটি কঠিন হতে পারে। তাই বয়স ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
অমিতাভ বচ্চনের ২৬ বছরের ফিটনেস রুটিন থেকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে ধারাবাহিকতা। তিনি নিয়মিত শরীরচর্চাকে দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিণত করেছেন। বয়স বাড়লেও সেই অভ্যাস থেকে সরে যাননি।
ফিট থাকার জন্য একদিন খুব কঠিন ব্যায়াম করে পরের কয়েকদিন কিছু না করার চেয়ে নিয়মিত ও উপযুক্ত মাত্রার শরীরচর্চা বেশি কার্যকর অভ্যাস তৈরি করতে পারে। ব্যক্তিভেদে ব্যায়ামের ধরন অবশ্যই আলাদা হবে।
অমিতাভের রুটিনও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ব্যায়াম যোগ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যাসের মূল কাঠামো ধরে রেখেছেন তিনি।
৮৩ বছর বয়সেও অমিতাভ বচ্চনের নিয়মিত শরীরচর্চা তাঁর দীর্ঘদিনের শৃঙ্খলার একটি উদাহরণ। তাঁর রুটিনে বড় ধরনের চমক নেই। বরং রয়েছে পরিচিত কিছু অনুশীলন, নিয়মিততা এবং বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন।
ফিটনেসের ক্ষেত্রে অনেক সময় দ্রুত ফল পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যক্তির উপযোগী একটি পরিকল্পনা তৈরি করে সেটি নিয়মিত অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। অমিতাভের ২৬ বছরের রুটিন সেই ধারাবাহিকতার কথাই সামনে আনে।
তবে কারও শরীরচর্চার রুটিন দেখে হুবহু অনুসরণ করা ঠিক নয়। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং পূর্বের চোট বা অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
অমিতাভ বচ্চনের ক্ষেত্রে তাই নির্দিষ্ট কোনো একটি ব্যায়াম নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে শরীরচর্চার অভ্যাস ধরে রাখাটাই তাঁর ফিটনেস রুটিনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। ২৬ বছর ধরে নিয়মিত অনুশীলন, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন এবং বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যায়াম এই তিনটি বিষয়ই তাঁর রুটিনকে আলাদা করে তুলেছে।



