সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeদেশজুড়েনতুন রূপে ফিরছে যশোরের শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম

নতুন রূপে ফিরছে যশোরের শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বিশেষ উদ্যোগে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী তাঁর ফেসবুক পেজে অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রটি শেয়ার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জেলা প্রতিনিধি, যশোর, ৯ সেপ্টেম্বর : অবশেষে নতুন প্রাণ পেতে যাচ্ছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামটির সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। কয়েক দশক ধরে অবহেলার শিকার স্টেডিয়ামটিতে এই বরাদ্দ যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বিশেষ উদ্যোগে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী তাঁর ফেসবুক পেজে অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রটি শেয়ার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেখানে এখন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের জোয়ার বইছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-১ শাখা থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘যশোর জেলা শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় সর্বোচ্চ ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। পরিকল্পনা বিভাগের নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে পুনর্গঠিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদনের জন্য পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি যশোর স্টেডিয়ামের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৬৭ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে আধুনিক স্টেডিয়ামের স্বপ্ন দেখেছেন ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকেরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বর্তমানে স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ চেহারাই দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র তুলে ধরছে।

সূত্র আরও জানায়, স্থাপনাসহ যশোর স্টেডিয়ামের মোট জমির পরিমাণ ছয় একর ৯৫ শতক। এর মধ্যে মূল মাঠের আয়তন পাঁচ একর ৯১ শতক। বর্ষা মৌসুমে মাঠের বড় অংশে পানি জমে থাকে। কোথাও কোথাও আবার হাঁটুসমান বা তার চেয়েও উঁচু ঘাসে ঢেকে যায় পুরো মাঠ। মাঠের বর্তমান চেহারা দেখে অনেক সময় এটিকে খেলার মাঠ না কি জলাশয়Ñতা বোঝার উপায় থাকে না।

গ্যালারির ফেন্সির বিভিন্ন অংশে জড়িয়ে আছে লতাপাতা। গ্যালারি ও এর সামনের অংশ আগাছায় ভরে গেছে। গ্যালারির বাইরের অংশ এবং ভবনের বিভিন্ন জায়গাতেও জন্মেছে আগাছা। আমেনা খাতুন গ্যালারির বিভিন্ন অংশের অবস্থাও ভঙ্গুর।

জানা যায়, বছরের প্রায় সাত মাসই স্টেডিয়ামের দুরবস্থা প্রকট হয়ে ওঠে। বর্ষা মৌসুমে মাঠের অধিকাংশ জায়গায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। মাঠটি বাইরের অংশের তুলনায় প্রায় দুই থেকে আড়াই ফুট নিচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশনও কঠিন হয়ে পড়ে। মাঠের পানি বের হওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেও দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। উল্টো বাইরের পানিও মাঠে এসে জমে।

ফলে বছরের বড় একটি সময় মাঠটি খেলার অনুপযোগী থাকে। অথচ এই মাঠেই ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন বড় ও ছোট ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয় এখানে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবে বছরে প্রায় চার মাস মাঠ খেলার উপযোগী থাকে। এই স্বল্প সময়ে সব প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক সময় দায়সারা গোছের আয়োজনেই প্রতিযোগিতা শেষ করতে হয়। বছরের পর বছর এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় যশোরের ক্রীড়াঙ্গন আশপাশের জেলার তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে।
স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বরাদ্দে উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেছেন যশোরের ক্রিকেটাররা। অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শাহরিয়ার সাকিব বলেন, যশোরে প্রতিভার অভাব নেই, বরং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিই বড় সমস্যা।

তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে যশোরে আসলে অনুশীলনের কোনো উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যেত না। আমাদের যশোরে প্রতিভার অভাব ছিল না, ছিল সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি। উন্নত টার্ফ, ভালো ড্রেনেজ এবং আধুনিক জিমনেসিয়াম না থাকায় এখানকার ক্রিকেটারদের অনুশীলনে নানা বাধা পেরোতে হতো।”

একই ধরনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক এমএ আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল।
তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ভাই ভোটারদের কথা দিয়েছিলেন যে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন করবেন। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তিনি সেই কথা রেখেছেন, যা আমাদের অত্যন্ত আনন্দিত করেছে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ