খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপে ভাঙছে সব রেকর্ড! মেসি, এমবাপে ও হালান্ডের তাণ্ডবে কাঁপছে ফুটবল বিশ্ব

বিশ্বকাপে ভাঙছে সব রেকর্ড! মেসি, এমবাপে ও হালান্ডের তাণ্ডবে কাঁপছে ফুটবল বিশ্ব

লিওনেল মেসির নাম ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের তালিকায় বহু আগেই উঠে গেছে। বয়স বাড়লেও মাঠে তার জাদু একটুও কমেনি। অভিজ্ঞতা, নিখুঁত পাস এবং অসাধারণ ফিনিশিং দিয়ে তিনি এখনও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।

ফুটবলের বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উত্তেজনা এবং ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। প্রতিটি আসরে জন্ম নেয় নতুন নায়ক, তৈরি হয় নতুন গল্প এবং ভেঙে যায় বহু পুরনো রেকর্ড। চলমান বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। বরং এবার যেন গোলের উৎসবে মেতেছে বিশ্ব ফুটবল। মাঠে একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়ছেন বিশ্বের সেরা তারকারা। বিশেষ করে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ড এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি।

চলতি বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে আক্রমণাত্মক ফুটবলের আধিপত্য। প্রতিটি ম্যাচেই হচ্ছে একাধিক গোল। দর্শকরা পাচ্ছেন শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের স্বাদ। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তিন ফুটবল সুপারস্টার— লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ড।

তিনজনই নিজেদের অসাধারণ ফর্ম ধরে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলছেন। তাদের গোল করার ধারাবাহিকতা শুধু দলকে এগিয়ে নিচ্ছে না, তৈরি করছে নতুন ইতিহাসও।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকারদের তালিকায় আর্লিং হালান্ডের নাম এখন প্রথম দিকেই থাকে। তার শারীরিক শক্তি, গতি এবং গোল করার দক্ষতা ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পেয়েছে।

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি প্রতিপক্ষকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় জানান। এই দুই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭-এ। মাত্র চার ম্যাচে সাত গোল করা যে কোনো ফুটবলারের জন্য অবিশ্বাস্য একটি অর্জন।

হালান্ডের খেলার ধরন দেখে অনেকেই মনে করছেন, তিনি শুধু গোল করছেন না, ভবিষ্যৎ ফুটবলের নতুন যুগও শুরু করছেন।

লিওনেল মেসির নাম ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের তালিকায় বহু আগেই উঠে গেছে। বয়স বাড়লেও মাঠে তার জাদু একটুও কমেনি। অভিজ্ঞতা, নিখুঁত পাস এবং অসাধারণ ফিনিশিং দিয়ে তিনি এখনও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।

চলতি বিশ্বকাপে মেসি চার ম্যাচ খেলেই সাত গোল করেছেন। তার এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করছে, বড় মঞ্চে তিনি সবসময় বিশেষ কিছু করে দেখাতে পারেন।

অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপে গত কয়েক বছরে নিজেকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার ক্ষমতা তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এমবাপে পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে ইতোমধ্যেই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন।

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে অসংখ্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কিন্তু এবার এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

প্রথমবারের মতো এক বিশ্বকাপে তিনজন ফুটবলার সাত বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়েছেন। মেসি, এমবাপে এবং হালান্ড— তিনজনেরই গোলসংখ্যা এখন সাত।

এর আগে বিশ্বকাপের কোনো আসরে তিনজন খেলোয়াড় একসঙ্গে সাত বা তার বেশি গোল করতে পারেননি। চার বছর আগে দুইজন খেলোয়াড় এই সংখ্যায় পৌঁছেছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনে।

এই ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বর্তমান ফুটবলের আক্রমণাত্মক মানসিকতার বড় উদাহরণ।

এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড এখনও ধরে রেখেছেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাঁ ফঁতে। তিনি ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ছয় ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন। এত বছর পরও সেই রেকর্ড অক্ষত রয়েছে।

এছাড়া ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির সাভর কোসিস করেছিলেন ১১ গোল।

তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। মেসি, এমবাপে এবং হালান্ড যেভাবে গোল করছেন, তাতে তাদের সামনে এখনও কয়েকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। তারা যদি একই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন এবং দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন, তাহলে বহু বছরের পুরনো সেই রেকর্ডও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, উত্তেজনাও তত বাড়ছে। এখন শুধু ম্যাচের ফল নয়, ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়েও চলছে তুমুল আলোচনা।

মেসির অভিজ্ঞতা, এমবাপের গতি এবং হালান্ডের গোলক্ষুধা— এই তিন শক্তি বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন, শেষ পর্যন্ত কে হবেন সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং কে নতুন ইতিহাসের মালিক হবেন।

একটি বিষয় নিশ্চিত— চলমান বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসে নিজের জায়গা তৈরি করে ফেলেছে।