খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালমেসি-সোফি সম্পর্কের গুঞ্জনে মুখ খুললেন সোফি! আন্তোনেয়ার বার্তায় কী লেখা ছিল?

মেসি-সোফি সম্পর্কের গুঞ্জনে মুখ খুললেন সোফি! আন্তোনেয়ার বার্তায় কী লেখা ছিল?

সোফি মনে করেন, তিনি একজন নারী ক্রীড়া সাংবাদিক হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, একই ঘটনা যদি কোনও পুরুষ সাংবাদিকের সঙ্গে ঘটত, তাহলে এত বিতর্ক তৈরি হতো না।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন বা জল্পনার শেষ নেই। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার কাবো ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের পর সাংবাদিক সোফি মার্তিনেজকে আলিঙ্গন করা এবং তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেসি ও সোফির সম্পর্ক নিয়ে ভিত্তিহীন আলোচনা শুরু করেন। তবে এবার সেই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন স্বয়ং সোফি মার্তিনেজ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মেসির স্ত্রী আন্তোনেয়া রোকুজ্জোও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন।

সোফি মার্তিনেজ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তাঁর এবং লিওনেল মেসির সম্পর্ক নিয়ে যেসব গল্প বা গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। বরং এসব আলোচনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তাঁর ভাষায়, জনসম্মুখে কাজ করলে সমালোচনা ও গুজবের মুখোমুখি হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন সেই গুজব পরিবারের শান্তি নষ্ট করতে শুরু করে, তখন বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টের হয়ে ওঠে।

সোফি বলেন, জনপরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে মানুষ প্রায়ই অতিরঞ্জিত গল্প তৈরি করে। এ বছর বিষয়টি আরও বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি মেসি তাঁর দিকে কীভাবে তাকিয়েছেন বা কী বলেছেন, সেটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই বিতর্কের মাঝেই সোফির পাশে দাঁড়িয়েছেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেয়া রোকুজ্জো। সোফির দাবি, আন্তোনেয়া তাঁকে একটি ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বার্তায় আন্তোনেয়া লিখেছিলেন, “চিন্তা কোরো না। এসব ভিত্তিহীন আলোচনাকে গুরুত্ব দিও না, উপেক্ষা করো।”

সোফি জানান, এই সমর্থন তাঁর জন্য অনেক বড় মানসিক শক্তি হয়ে এসেছে। কারণ, অযৌক্তিক গুজবের বিরুদ্ধে কাছের মানুষের এমন সহমর্মিতা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

সোফি মনে করেন, তিনি একজন নারী ক্রীড়া সাংবাদিক হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, একই ঘটনা যদি কোনও পুরুষ সাংবাদিকের সঙ্গে ঘটত, তাহলে এত বিতর্ক তৈরি হতো না।

তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে মাঠে কাজ করার কারণে অনেক সময় তাঁর পেশাদার সম্পর্ককেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ তিনি সবসময়ই নিজের কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করে এসেছেন।

সোফির মতে, মেসির ব্যক্তিগত জীবন এতটাই সাধারণ এবং বিতর্কমুক্ত যে অনেকেই অকারণে কোনও না কোনও গল্প তৈরি করার চেষ্টা করেন।

কাবো ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন লিওনেল মেসি। পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন সোফি মার্তিনেজও। তাঁকে দেখে হাসিমুখে এগিয়ে যান মেসি, আলিঙ্গন করেন এবং মজার ছলে বলেন,

“আমি যদি তোমার দিকে তাকাই, সবাই প্রশ্ন করবে কেন তাকালাম। যদি তোমার সঙ্গে কথা বলি, তাহলেও সবাই জানতে চাইবে কেন কথা বললাম।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে মেসি যেন স্পষ্ট করে দেন, তাঁদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের আলোচনা চলছে, সে সম্পর্কে তিনি অবগত।

মেসির এই কথার জবাবে সোফি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,

“তুমি যা বললে, সেটা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। আমাকে সমর্থন করার জন্য ধন্যবাদ।”

এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের ভিডিওই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে দুই পেশাদার মানুষের স্বাভাবিক আলাপ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ অকারণেই সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করেন।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটদুনিয়ায় দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

একটি অংশের মানুষ মেসির সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, ভিত্তিহীন গুজবকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি স্বাভাবিক আচরণ করেছেন এবং একজন সাংবাদিককে যথাযথ সম্মান দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেন যে বহু সাংবাদিকের মধ্যে শুধুমাত্র সোফিকেই আলিঙ্গন করায় নিশ্চয়ই তাঁদের মধ্যে বিশেষ কোনও সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ কখনও সামনে আসেনি।

মেসি ও সোফির প্রথম আলোচিত সাক্ষাৎ হয়েছিল কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে। সে সময় সাক্ষাৎকারে সোফি প্রশ্ন না করে বরং পুরো আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে মেসিকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে মেসির মর্যাদা কমবে না। তিনি দেশের কোটি মানুষের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং তাঁদের গর্বিত করেছেন।

সোফির সেই আবেগঘন বক্তব্যে মেসিও স্পষ্টভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয় এবং দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

বর্তমান বিতর্ক নিয়ে সোফির বক্তব্য স্পষ্ট—মেসির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সম্পূর্ণ পেশাদার। একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন, আর মেসিও সবসময়ই তাঁকে একজন পেশাদার হিসেবে সম্মান দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে আন্তোনেয়ার বার্তাও ইঙ্গিত দেয়, এই গুঞ্জনকে মেসির পরিবার গুরুত্ব দিচ্ছে না। বরং ভিত্তিহীন আলোচনা এড়িয়ে চলার পরামর্শই দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যতই নানা জল্পনা ছড়াক না কেন, মেসি, সোফি এবং আন্তোনেয়ার বক্তব্যে পরিষ্কার—এটি কেবল গুজব, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই।