সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeরাজনীতিমেধাবী তরুণদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

মেধাবী তরুণদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

রাজনৈতিক নেতৃত্বের মান যত উন্নত হবে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে দেশ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।

এনবি সংবাদ ডেক্স : দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে রাজনীতিতে ভালো, সৎ ও মেধাবী মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন করলেই হবে না; সেই উন্নয়ন ধরে রাখতে প্রয়োজন যোগ্য ও সৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের গুণগত মান বাড়াতে হলে নেতৃত্বের জায়গায় ভালো মানুষকে নিয়ে আসতে হবে। তার মতে, একটি দেশের উন্নয়ন কেবল রাস্তা, সেতু, শিল্পকারখানা কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব উন্নয়নকে সঠিকভাবে পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশে এখন এমন একটি পর্যায় এসেছে, যেখানে মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সৎ ও যোগ্য মানুষের নেতৃত্বে আসার কোনো বিকল্প নেই।

আন্দালিব রহমান পার্থের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মান যত উন্নত হবে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে দেশ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক ভালো, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণ রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নয়। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, মেধাবী তরুণরা যদি রাজনীতিতে না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে যোগ্য নেতৃত্বের সংকট আরও প্রকট হতে পারে। তাই তরুণ প্রজন্মের জন্য রাজনীতিতে আসার একটি ইতিবাচক ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

রাজনীতির গুরুত্ব বোঝাতে একটি উদাহরণ দেন আন্দালিব রহমান। তিনি বলেন, ভালো উপকরণ থাকলেও দক্ষ বাবুর্চি না থাকলে যেমন সুস্বাদু খাবার তৈরি করা কঠিন, তেমনি দেশের হাতে সম্পদ ও উন্নয়নের সুযোগ থাকলেও যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া সেই উন্নয়নকে টেকসই করা সম্ভব নয়।

তিনি মনে করেন, দেশের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো, গ্যাস সরবরাহ, শিল্পায়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

আর এই উন্নয়নকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে রাজনীতিতে সৎ, দক্ষ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সেমিনারে বরিশালের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল এবং বরিশালের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

ফুটবল থেকে রাজনীতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল থেকে অনেক প্রতিভাবান মানুষ জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরও এই অঞ্চল থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন।

বরিশালের এই ঐতিহ্যকে সামনে এগিয়ে নিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকেও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে একটি স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন দূরদর্শী ও যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

তিনি বলেন, বরিশালের আশপাশের নির্বাচনী এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে। তবে শুধু উৎসাহ দিলেই হবে না; তাদের জন্য রাজনীতিতে প্রবেশের অনুকূল পরিবেশও তৈরি করতে হবে।

তরুণদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে যাতে অপ্রয়োজনীয় বাধা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও রাজনৈতিক দল ও বর্তমান নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা বর্তমানে রাজনীতিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের অন্যতম দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য ও মেধাবীদের সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করা।

তার মতে, বর্তমান নেতৃত্ব যদি তরুণদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পথ সহজ করে দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশ আরও দক্ষ নেতৃত্ব পাবে। তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, দেশের জন্য অনেক কিছু তৈরি করে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করা না গেলে ভবিষ্যতে সেই অর্জনগুলো ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের সামনে ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়া কিংবা বিদেশে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার মতো অনেক সুযোগ রয়েছে। এসব পেশার পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশ যদি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে, তাহলে সেটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে মেধাবীদের অংশগ্রহণ বাড়লে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন চিন্তা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী ধারণা যুক্ত হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনকে আরও কার্যকরভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ বরিশাল থেকে উঠে আসা অনেক বড় নেতার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের।

তথ্য সূত্র: বাসস

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ