সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট...

Homeঅর্থ-বানিজ্যরাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে কঠোর বেনাপোল কাস্টমস, কমছে আমদানি বানিজ্য

রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে কঠোর বেনাপোল কাস্টমস, কমছে আমদানি বানিজ্য

কাষ্টমসের আইআরএম টিম পরীক্ষন টিম নিবিড় তদারকি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকির একাধিক সুসংগঠিত অপচেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। বিগত তিন মাসে আইআরএম টিমের কড়া নজরদারিতে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব উদ্ধার হয়েছে এবং আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের চালানে জালিয়াতি ও মারাত্মক অনিয়ম ধরা পড়েছে।

জেলা প্রতিনিধি, যশোর,৩ সেপ্টেম্বর : বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানী বানিজ্য অনেকাংশে কমে গেছে। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আমদানী কম হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমে গেছে। রাজস্ব ফাঁকি ও মিথ্যা ঘোষণা ঠেকাতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে পরীক্ষন টিমের কঠোর নজরদারি ও শতভাগ পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। কোন চালান সন্দেহজনক মনে হলে শতভাগ পরীক্ষা, বিশেষ অভিযান, অতিরিক্ত পণ্য শনাক্ত এবং আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। কঠোর অবস্থানে রয়েছে কাস্টমস আইআরএম টিম। ফলে একটি চালান পরীক্ষন করতে কয়েকদিন সময় লেগে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধের পাশাপাশি বৈধ আমদানিকারকরা যাতে হয়রানি না, সে বিষয়েও কাস্টম সমান গুরুত্ব রদয়ার কথা বলছেন।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। তাারা বলছেন, হাতে গোনা ২/১ জন হলুদ সাংবাদিকের কারণে বেনাপোল কাস্টম হাউসের ইমেজ নস্ট হচ্ছে। হলুদ সাংবাদিকরা কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে জোর করে চাদা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে নাম না জানা ২/১ টি পত্রিকা ও ফেসবুকে কর্মকর্তাদের জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে কাস্টমস ও বন্দরের পরিবেশ নস্ট করছে। যার ফলে কাস্টমস বাধ্য হয়েই এক একটি পন্য চালান ৩/৪ দিন ধরে পরীক্ষন কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরন করে দ্রুত পন্য খালাশ দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও। সেই নির্দেশনা তারা বাস্তবায়ন করতে পারছে না।
বৈধ পণ্য চালান দ্রুত খালাস নিশ্চিতকরণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা রোধে কাস্টমস হাউস বেনাপোল প্রতিনিয়ত সতর্ক ভূমিকা পালন করে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান, নির্দেশনা অনুযায়ী কাষ্টমসের আইআরএম টিম পরীক্ষন টিম নিবিড় তদারকি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকির একাধিক সুসংগঠিত অপচেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। বিগত তিন মাসে আইআরএম টিমের কড়া নজরদারিতে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব উদ্ধার হয়েছে এবং আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের চালানে জালিয়াতি ও মারাত্মক অনিয়ম ধরা পড়েছে।

কাস্টমস সূত্র বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়। একই সময়ে বিভিন্ন অভিযানে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানির ১৪টি চালান আটক করো হয়। এসব ঘটনায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি ধরা পড়েছে।

রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি বলেন,কাস্টমস আইআরএম টিম যেসব পন্য চালানগুলো পরীক্ষা করেন তা শতভাগই কায়িক পরীক্ষা করে পন্য খালাশ দিয়ে থাকেন। যশোর শহরের এক পত্রিকার সম্পাদক বেশীর ভাগ সময় বেনাপোল প্রতিনিয়ত এসে কাস্টমস ও বন্দর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জোর করে চাদা আদায় করে থাকে। চাদা না দিলে তাদের বিুরদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রকাশ করে থাকে।

রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে গিয়ে ব্যাপক কড়াকড়ির কারণে বেনাপোল দিয়ে আমদানিও কমেছে। কাস্টমসের হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন পন্য আমদানি কমে গেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। বছর শেষে আদায় হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪২ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সময়ে বেনাপোল দিয়ে আমদানি প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন পন্য কম আমদানি হয়েছে।

আমদানি ও রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কার পরও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের জন্য ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগের অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি ৭০২ কোটি টাকা কম।

তবে গত অর্থবছরে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা আদায়ের পর নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বেনাপোলকে গত বছরের আদায়ের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ২৯ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান জানিয়েছেন, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ