ঢাকার সাভারের আশুলিয়া আবাসিক এলাকার একটি ভবনের তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী এবং একটি সদ্যজাত নবজাতক রয়েছে। দীর্ঘ সময় দরজা-জানালা বন্ধ থাকার পর ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে লাশগুলো উদ্ধার করে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। ভবনটির মালিক হাজী হযরত আলী।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত পুরুষ ও নারী নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসায় ভাড়া উঠেছিলেন। আগষ্ট মাসের ৯ তারিখে তারা নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে ভবনটির দ্বিতীয় তলার ওই কক্ষে ওঠেন।
বাসিন্দাদের দাবি, ঘরটিতে ওঠার পর থেকেই ওই দম্পতির চলাফেরা খুব একটা চোখে পড়েনি। ঘরের দরজা-জানালা বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকত। বাইরে থেকে দেখলে কক্ষটিতে তেমন কোনো অস্বাভাবিকতা বোঝা যায়নি।
তবে শুক্রবার হঠাৎ ওই কক্ষের আশপাশে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের কারণ জানতে স্থানীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা তিনটি লাশ দেখতে পান।
পুলিশের উদ্ধার করা লাশগুলোর মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী এবং একটি নবজাতক রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হয়নি। উদ্ধার করা পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ কারণে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে ঠিক কীভাবে এবং কেন তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানান পুলিশ।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ শুরু করেছে। খবর পেয়ে সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
একই সঙ্গে ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং আশুলিয়া থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা কক্ষটির ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
তদন্তকারীরা নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ওই বাসায় তারা কীভাবে এসেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে তাদের সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ভবনের মালিক, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার করা লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে একাধিক দল কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।





