স্পোটস ডেস্ক : মহেন্দ্র সিং ধোনির আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক এবং চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) পাঁচবারের ট্রফিজয়ী অধিনায়ক কি এবার সত্যিই আইপিএলকে বিদায় জানাতে চলেছেন? প্রাক্তন সিএসকে তারকা সুব্রাহ্মণ্যম বদ্রীনাথের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বদ্রীনাথ দাবি করেছেন, আইপিএলে ধোনির খেলা নিয়ে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা হয়েছে। সেই আলোচনায় নাকি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’।
বদ্রীনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, ধোনি ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে মাঠে নামতে আগ্রহী নন। কারণ, তিনি উইকেটকিপার হিসেবেই পুরো ম্যাচে মাঠে থাকতে চান।
প্রাক্তন সিএসকে ক্রিকেটারের দাবি, ধোনি তাঁকে বলেছেন, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলার পরিবর্তে তিনি উইকেটকিপার হিসেবেই ২০ ওভার মাঠে থাকতে চান। আর এই অবস্থানই তাঁর আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ধোনির বয়স ইতিমধ্যেই ৪৫ বছর। ফলে ২০ ওভার উইকেটকিপিং করার পর ব্যাট হাতে নেমে দীর্ঘ সময় পারফর্ম করা যে শারীরিক ভাবে কঠিন, তা বলাই যায়।
ধোনিকে নিয়ে এর আগে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে মাঠে নামার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এই নিয়মের কারণে কোনও ক্রিকেটারকে পুরো ম্যাচ ফিল্ডিং না করিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাটিং বা বোলিংয়ে ব্যবহার করা সম্ভব।
ধোনির মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারকে এই নিয়মে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেনি সিএসকে।
বদ্রীনাথের বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে এর কারণও কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে। ধোনি নিজে যদি শুধুমাত্র ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলতে না চান, তাহলে তাঁর আইপিএলে ফেরার সম্ভাবনা আরও কমে যায়।
গত মরশুমে চেন্নাই সুপার কিংসের স্কোয়াডে থাকলেও ধোনিকে নিয়মিত মাঠে দেখা যায়নি। চোটের কারণে তিনি দলের ডাগআউটেই সময় কাটিয়েছেন।
এর ফলে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। তিনি আরও একটি মরশুম খেলবেন কি না, তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা।
এবার বদ্রীনাথের মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
শুধু ক্রিকেট নয়, চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে ধোনির ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে ধোনির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দলের মালিকানার একটি অংশ কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এমনকি ২৫ শতাংশ মালিকানা কেনার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছিল।
তবে এই দাবি নিয়ে সিএসকে বা ধোনির পক্ষ থেকে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা না থাকায় বিষয়টিকে আপাতত জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ধোনি আইপিএলে শুধু একজন ক্রিকেটার নন, তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের পরিচয়ের অন্যতম বড় অংশ। তাঁর নেতৃত্বে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পাঁচবার আইপিএল ট্রফি জিতেছে।
তাঁর নেতৃত্ব, ফিনিশিং এবং উইকেটকিপিং দীর্ঘদিন ধরে আইপিএলের অন্যতম আকর্ষণ। তাই তাঁর অবসর মানেই একটি যুগের অবসান।
কিন্তু বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিও অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে ধোনি যদি ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলতে না চান এবং একই সঙ্গে ২০ ওভার উইকেটকিপিং করাকেই নিজের শর্ত হিসেবে দেখেন, তাহলে তাঁর জন্য পরবর্তী আইপিএলে খেলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ধোনির ভক্তদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অন্য জায়গায়। যদি তিনি সত্যিই আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে কি তাঁকে কোনও বিদায়ী ম্যাচে দেখা যাবে?
ধোনির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও আবেগের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের সময়ও তিনি প্রচলিত জাঁকজমকপূর্ণ বিদায়ী ম্যাচের পথ বেছে নেননি। ফলে আইপিএল থেকেও একইভাবে নীরবে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে এখনও ধোনির পক্ষ থেকে আইপিএল থেকে অবসর নেওয়ার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তাই বদ্রীনাথের মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা গেলেও এটিকে ধোনির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
মহেন্দ্র সিং ধোনি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তার উত্তর মিলবে তাঁর নিজের বক্তব্যেই। তিনি যদি আরও একবার হলুদ জার্সিতে মাঠে নামেন, তা হলে ধোনিভক্তদের জন্য সেটি নিঃসন্দেহে বড় আনন্দের মুহূর্ত হবে।
আর যদি তিনি সত্যিই আইপিএলকে বিদায় জানান, তাহলে ক্রিকেটপ্রেমীরা হয়তো প্রত্যক্ষ করবেন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা।
এই মুহূর্তে বদ্রীনাথের বক্তব্য থেকে যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা ধোনির আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। তবে শেষ কথা বলবেন স্বয়ং মাহি।





