খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeজাতীয়আওয়ামী লীগের বিচার হবে আদালতেই, নির্বাহী আদেশে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের বিচার হবে আদালতেই, নির্বাহী আদেশে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার নীতিতে বিশ্বাস করে না। তার ভাষায়, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটির নিষ্পত্তি অবশ্যই বিচার বিভাগের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নির্বাহী আদেশ নয়, বরং সংবিধান ও বিচারিক প্রক্রিয়াকেই অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিক নির্দেশে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে আইনের শাসন ও আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার নীতিতে বিশ্বাস করে না। তার ভাষায়, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটির নিষ্পত্তি অবশ্যই বিচার বিভাগের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

তিনি জানান, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ব্যক্তি এবং সংগঠন উভয়ের বিচার করার সুযোগ রয়েছে। সরকার সেই সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামো অনুসরণ করেই এগোচ্ছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের শাসনামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে ধরনের হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন ঘটনায় নিরীহ মানুষ, শিশু এবং নারীরাও প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন :  তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের কারিগরি সহায়তা

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার দায় কেবল ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিক দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর বিচার আইনের আওতায় সম্পন্ন হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরিয়ে আনার পর প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের বাইরে অবস্থানরত যেসব ব্যক্তি বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদেরও ইন্টারপোলসহ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে।

আরও পড়ুন :  রেমিট্যান্সে বড় ধস: ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবাসী আয়

তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কেউ দেশের বাইরে থাকলেও আইনগত প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পাবেন না।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, দল বা সংগঠনের অর্জন নয়। এটি ছিল দেশের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন।

তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, এই আন্দোলনের চেতনাকে যেন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা হয়। তার মতে, জাতীয় ঐক্য বজায় থাকলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে, আর বিভক্তি তৈরি হলে স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের জন্য সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি সরকারের রয়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতের শাসকরা যেন অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেন, সে জন্য ইতিহাস সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন :  জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল? সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে বড় পরিসরে

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে আর কখনও স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন আরও সুদৃঢ় হয়।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগেরও সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সংগঠনটি নেতিবাচক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে।

তার মতে, নতুন প্রজন্ম জুলাই আন্দোলনের আদর্শ ধারণ করে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে এবং শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া আন্দোলনে আহত ব্যক্তিবর্গ, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আর্কাইভ