খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালমেসিকে বলই পেল না! স্পেনের একপেশে আধিপত্যে বিশ্বকাপ ফাইনালে চাপে আর্জেন্টিনা

মেসিকে বলই পেল না! স্পেনের একপেশে আধিপত্যে বিশ্বকাপ ফাইনালে চাপে আর্জেন্টিনা

ডিফেন্স থেকে ক্লিয়ার হওয়া বল কিংবা মাঝমাঠে লুজ বল—বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা নিজেদের দখলে নেয় স্পেন। ফলে বলের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের কাছেই রাখতে সক্ষম হয় তারা। বিপরীতে আর্জেন্টিনা বলের দখল হারিয়ে ক্রমাগত রক্ষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে স্পেন। বল দখল, পাসিং, গতি এবং আক্রমণের ধার—সব দিক থেকেই আর্জেন্টিনাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে লামিন ইয়ামালদের দল। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি। স্পেনের হাই প্রেসিং এবং দ্রুতগতির ফুটবলের সামনে রীতিমতো অসহায় দেখিয়েছে স্কালোনির দলকে।

ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে স্পেন। দুই প্রান্ত ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে আক্রমণ গড়ে তোলে তারা। লামিন ইয়ামাল, মার্ক কুকুরেয়া এবং স্পেনের মিডফিল্ডাররা বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন।

স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণে বেশ কয়েকবার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বাঁচান। তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ না থাকলে প্রথমার্ধেই স্পেন একাধিক গোলে এগিয়ে যেতে পারত।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফুটবলে পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাঝমাঠে বল ধরে রেখে খেলার বদলে বারবার বল হারাতে থাকে তারা। স্পেনের প্রেসিংয়ের কারণে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা নিজেদের অর্ধেই আটকে পড়েন।

প্রথম ৩৫ মিনিটে একবারও স্পেনের গোলমুখে কার্যকর শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। গোলরক্ষক উনাই সিমন কার্যত দর্শকের ভূমিকাতেই ছিলেন। অন্যদিকে, স্পেনের প্রতিটি আক্রমণেই গোলের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল।

আরও পড়ুন :  অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে টপকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে যেসব দেশ

স্পেনের পরিকল্পনার অন্যতম সফল দিক ছিল লিওনেল মেসিকে ম্যাচ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা। প্রথম ২০ মিনিটে মাত্র দু’বার বল স্পর্শ করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

একবার কিক-অফের সময় এবং আরেকবার মাঝমাঠে বল পেলেও দ্রুত তাঁকে ফাউল করে থামিয়ে দেন স্পেনের আলেক্স বায়েনা। ফলে মেসি আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগই পাননি। তাঁর কাছে বল না পৌঁছানোয় আর্জেন্টিনার আক্রমণ কার্যত ভেঙে পড়ে।

স্পেনের ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দ্রুত পাস আদান-প্রদান এবং নিরবচ্ছিন্ন মুভমেন্ট। বল হারানোর পরও মুহূর্তের মধ্যে প্রেসিং করে তা ফিরিয়ে নিচ্ছিল তারা।

আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা বল কেড়ে নেওয়ার বদলে বারবার ফাউলের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ম্যাক অ্যালিস্টার, ডি পলদের কয়েকটি ট্যাকল সেই চাপেরই প্রমাণ।

আধুনিক ফুটবলে সেকেন্ড বল জেতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই বিভাগেও ছিল স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য।

ডিফেন্স থেকে ক্লিয়ার হওয়া বল কিংবা মাঝমাঠে লুজ বল—বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা নিজেদের দখলে নেয় স্পেন। ফলে বলের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের কাছেই রাখতে সক্ষম হয় তারা। বিপরীতে আর্জেন্টিনা বলের দখল হারিয়ে ক্রমাগত রক্ষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

স্পেন শুরু থেকেই দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলে। ইয়ামাল ও কুকুরেয়ার সমন্বয়ে বারবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয় আর্জেন্টিনার বক্সে। ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটেই ইয়ামালের দুটি শট আর্জেন্টিনার রক্ষণকে সতর্ক করে দেয়।

আরও পড়ুন :  ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়! বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিশ্চিত

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাঝমাঠ দিয়ে থ্রু বলের সাহায্যে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করে। একবার মেসি ডিফেন্স ভেঙে এগিয়ে গেলেও দ্রুত বেরিয়ে এসে বিপদ সামাল দেন উনাই সিমন।

ফাইনালের আগে প্রথম একাদশে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।

ডান প্রান্তে অভিজ্ঞ গনসালো মন্টিয়েলকে নামিয়ে রক্ষণকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে রেখে রক্ষণে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি রদ্রির প্রভাব কমাতে রদ্রিগো ডি পলের উপর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাতে মেসি সামনে কিছুটা বেশি জায়গা পান।

তবে প্রথমার্ধে সেই পরিকল্পনার খুব একটা বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। স্পেনের চাপের মুখে আর্জেন্টিনা নিজেদের কৌশল কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়।

বিশ্বকাপ ফাইনাল নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ মিনিট পরে শুরু হয়। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন বহু পরিচিত মুখ। মেসি, ডি পল ও সুয়ারেজকে ভারত সফরে আনার উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তও মাঠে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন। তিনি ভবিষ্যতে আবারও মেসিকে ভারতে আনার ইচ্ছার কথাও জানান।

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ম্যাচ শুরুর আগে তাঁকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর উপস্থিতি ঘিরেও দর্শকদের মধ্যে ছিল আলাদা উৎসাহ।

আরও পড়ুন :  কেইন-বেলিংহ্যামের ঝড়ে বিধ্বস্ত ক্রোয়েশিয়া : ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর জয়

বিশ্বকাপ ফাইনালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজ। তিনিই দুই দলকে মাঠে আমন্ত্রণ জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর বিশ্বকাপ ট্রফি মাঠে নিয়ে আসেন আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ সালের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক মারিও কেম্পেস এবং স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্প্যানিশ টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজও।

প্রথম ৪৫ মিনিটে ম্যাচের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল স্পেন। বলের দখল, সফল পাস, আক্রমণের সংখ্যা, সেকেন্ড বল জেতা এবং গোলের সুযোগ তৈরি—সব ক্ষেত্রেই তারা আর্জেন্টিনাকে ছাপিয়ে যায়।

অন্যদিকে, মেসিদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বল নিজেদের দখলে রাখা এবং আক্রমণে ধার তৈরি করা। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হলে আর্জেন্টিনাকে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পাশাপাশি মেসিকে আরও বেশি বল জোগানোর পথ খুঁজে বের করতেই হবে। নইলে স্পেনের নিরবচ্ছিন্ন চাপ সামলে বিশ্বকাপের ট্রফি জেতা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।

আর্কাইভ